ইসরায়েলের রাজনৈতিক ব্যবস্থা দুর্বল করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরের নানা কৌশলের মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়ার লাপিদ বলেন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ভেতরের সরকারি অনুগতদের সহায়তায় গণতন্ত্র ধ্বংস এবং নির্বাচন ছিনতাইয়ের চেষ্টা চলছে যা আমরা আজ রাতে দেখতে পাচ্ছি।
বর্তমান পরিস্থিতিকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। একই সঙ্গে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকর্ষণকারী ব্যক্তিদের চাপ প্রতিহত করতে রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর একটি প্রতিবেদনের পর এই মন্তব্য সামনে আসে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে তিন আরব দলীয় নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিলেন শিন বেথ প্রধান ডেভিড জিনি।
কান জানিয়েছে, এই তিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে জিজ্ঞাসাবাদ করার মতো কোনো উপযুক্ত প্রমাণ শেষ পর্যন্ত খুঁজে পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ইসরায়েলের দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথের খবরে বলা হয়, তদন্তটিকে একটি নিরাপত্তা মামলা হিসেবে চালিয়ে যাওয়ার ডেভিড জিনির চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারা। এই ধরনের শ্রেণিবদ্ধকরণ করা হলে নিরাপত্তা সংস্থাটি আরও ব্যাপক তদন্তের ক্ষমতা পেত।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ দল এর প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বুধবার চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সামনে এল।
প্রাথমিক ভোট গণনায় নেতানিয়াহুর জোট ৫৩ আসন পেয়েছে। গাডি আইসেনকোটের বিরোধী জোট অর্জন করেছে ৪৮ আসন এবং দুটি আরব তালিকা মিলে পেয়েছে ১৯ আসন।
সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন অর্জন করতে পারেনি প্রধান রাজনৈতিক ব্লকের কোনোটিই।
ইসরায়েলের দৈনিক ইয়ারিভের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠন নিয়ে দলীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বুধবার আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে পারেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।
