মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

মানবিকতাবিরোধী অপরাধ: বোজিজের বিচার শুরু মধ্য আফ্রিকায়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৬, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

মানবিকতাবিরোধী অপরাধ: বোজিজের বিচার শুরু মধ্য আফ্রিকায়

ছবি : সংগৃহীত

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া বোজিজের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজধানী বাঙ্গুইতে অবস্থিত বিশেষ অপরাধ আদালত বা স্পেশাল ক্রিমিনাল কোর্ট এই মামলার শুনানি গ্রহণ করছে। আল জাজিরা এবং এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতে বোজিজের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, কারণ তিনি বর্তমানে গিনি-বিসাউতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।

বোজিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ। ২০০৩ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিলেন তিনি এবং দশ বছর পর বিদ্রোহীদের হাতে ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে তিনি গিনি-বিসাউতে অবস্থান করছেন। এই মামলায় কেবল তিনিই অভিযুক্ত নন, বরং তার সাবেক তিনজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাও অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন। ইউজিন ব্যারেট এনগাইকসেট, ভিয়ানি সেমন্ডিরো এবং ফার্মিন জুনিয়র ড্যানবয় বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

বিশেষ অপরাধ আদালত বা এসসিসি হলো একটি মিশ্র বিচারিক সংস্থা, যেখানে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের নিজস্ব বিচারকদের পাশাপাশি বিদেশি বিচারকরাও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালে আদালত সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। বোজিজের প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের বিরুদ্ধে দেশটির কেন্দ্রীয় শহর বোসেমবেলে একটি বেসামরিক কারাগার এবং সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পরোয়ানা দেওয়া হয়েছিল।

বিচারকবৃন্দ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বোজিজের বিরুদ্ধে গুরুতর এবং ধারাবাহিক প্রমাণ রয়েছে। সামরিক নেতা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে তার অপরাধের দায়বদ্ধতা এড়ানোর সুযোগ নেই বলে আদালত মত দিয়েছে। ২০০৩ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশটির বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র সংঘাত এবং কঠোর শাসন ব্যবস্থার শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই দেশটি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ অপরাধ আদালত ২০০৩ সাল থেকে সংঘটিত সব ধরনের যুদ্ধাপরাধ ও অপরাধের তদন্তের দায়িত্বে নিয়োজিত। দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাস রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী। বোজিজের বিচারকে দেশটির ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে এই আদালতের কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধানের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ কত দ্রুত শেষ হবে এবং ভুক্তভোগীরা কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। সরকার এবং আন্তর্জাতিক মহল এখন এই আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে।

banner
Link copied!