মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলন: ইরান ও ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৬, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলন: ইরান ও ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

ছবি : সংগৃহীত

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁস শহরে শুরু হওয়া জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের মূল মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ইরান ও ইউক্রেন সংকট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ বিশ্বের শিল্পোন্নত সাতটি দেশের নেতারা এই সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন। রয়টার্স এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, সম্মেলনে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত অবসানের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।

সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইরান ইস্যুতে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং কার্যকরী চুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মঙ্গলবার এক বৈঠকে তিনি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি যে সমঝোতার আভাস পাওয়া গেছে, তা একটি সুদৃঢ় চুক্তিতে রূপান্তর করাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প জ্বালানি রুট খোঁজা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মেলনে যোগ দিয়ে ইরান ইস্যুতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি খসড়া সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর শুক্রবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্পের মতে, এই সমঝোতা ওই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। সম্মেলনস্থল এভিয়ান-লে-বেঁস-এ পৌঁছানোর পর তিনি এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন নিয়েও কঠোর আলোচনা হয়েছে। ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও অন্যান্য পশ্চিমা নেতারা ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার চাপ ও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই সংকট নিরসনে রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জি-৭ নেতারা। সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর নেতারা ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে একজোট হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মিশর, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তারা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় তারা সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছেন না।

বিশ্ব অর্থনীতিতে এই যুদ্ধগুলোর প্রভাব মোকাবিলায় জি-৭ নেতারা একমত হয়েছেন। জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। ফ্রান্সের এই আয়োজন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় পুরো বিশ্ব সংকটের মুখে পড়েছে। নেতারা আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়গুলোতে একটি সমন্বিত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে সম্মেলনের মূল সাফল্য নির্ভর করছে ইরান ও ইউক্রেন ইস্যুতে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় তার ওপর।

banner
Link copied!