নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে রবিবারের ম্যাচে ফুটবল বিশ্বের নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হতে যাচ্ছে। একদিকে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান বিশ্বকাপ শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ এই টুর্নামেন্টের শেষে এসে এই দুই দলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব। আল জাজিরা এবং রয়টার্সের তথ্যমতে, এটি একটি উপযুক্ত সমাপ্তি হতে যাচ্ছে, যেখানে ফুটবলের দুই পরাশক্তি তাদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ফ্রান্সকে ফেভারিট হিসেবে গণ্য করা হলেও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে এই দুই দল। আর্জেন্টিনার জন্য এটি ছিল তাদের শিরোপা ধরে রাখার এক কঠিন লড়াই। ঊনচল্লিশ বছর বয়সী লিওনেল মেসি এখনো দলের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন। কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হারের পর যে চাপের মুখে ছিল আর্জেন্টিনা, এবারের আসরে তারা কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও লড়াই ছিল সমানে সমান। ১৯৫৮ এবং ১৯৬২ সালে ব্রাজিল সর্বশেষ টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছিল। সেই তালিকায় নিজেদের নাম লেখাতে হলে আর্জেন্টিনাকে এখন স্পেনের বাধা টপকাতে হবে।
আর্জেন্টিনার সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে তাদের মাঝমাঠের তিন খেলোয়াড় এন্জো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং পেরেদেস। তাদের খেলাকে অনেক বিশ্লেষক মেসির ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর ভূমিকার সাথে তুলনা করেছেন। তারা কেবল রক্ষণভাগকে সুরক্ষা দিচ্ছেন না, বরং মেসির আক্রমণভাগের পথও সহজ করে দিচ্ছেন। টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে আট গোল নিয়ে সবার উপরে আছেন মেসি। তার এই ফর্ম বজায় থাকলে শিরোপা ধরে রাখা আর্জেন্টিনার জন্য সহজ হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।
স্পেন টুর্নামেন্টজুড়ে যে ধরনের ফুটবল খেলেছে, তা যেকোনো দলের জন্যই হুমকিস্বরূপ। তাদের সুসংগঠিত আক্রমণভাগ এবং রক্ষণকৌশল আর্জেন্টিনার জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। মাঠের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকবে তা নির্ধারণ করবে খেলার কৌশল এবং খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা। মেসি কি তার ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় অর্জন করতে পারবেন, নাকি স্পেন তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে, তা দেখার জন্য রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুটবল বিশ্বের নজর এখন এই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের মহারণের দিকে।
