সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

উচ্ছেদের জেরে বিক্ষোভ

স্পেনে আগাম নির্বাচন: আবাসন বিল বাতিলেই বড় রাজনৈতিক মোড়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

স্পেনে আগাম নির্বাচন: আবাসন বিল বাতিলেই বড় রাজনৈতিক মোড়

তীব্র আবাসন সংকট এবং আইনসভায় সুরক্ষা বিল বাতিলের জেরে আগামী ২৯ নভেম্বর স্পেনে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সোমবার এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন। মূলত ভাড়াটেদের সুরক্ষায় সংখ্যালঘু সরকারের আনা দুটি জরুরি ডিক্রি সংসদ খারিজ করে দেওয়ায় দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংসদের এই সিদ্ধান্তের পরই রাজনৈতিক সংকট চূড়ান্তে পৌঁছায়।

টেলিভিশন ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ জানান, আবাসন সংস্কারের মতো জরুরি পদক্ষেপ পাস করাতে তার এখন বৃহত্তর প্রগতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার। তবেই তথাকথিত অভিজাতদের প্রতিরোধ ভেঙে জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সরকার পরিচালনায় কিছু ভুলত্রুটির কথা অকপটে স্বীকার করে তিনি বলেন, অসাম্য দূর করা, সরকারি সেবার মান বাড়ানো এবং সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করার মতো অনেক সংকট এখনো সমাধান করা বাকি। ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টি ও কনিষ্ঠ অংশীদার সুমার জোটের সমন্বয়ে গঠিত তার সরকারের সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালের আগে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না।

দেশজুড়ে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মূলে রয়েছে সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানী মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকাল নামের এক বৃদ্ধাকে ৭০ বছর ধরে বসবাস করা বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়। আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বাড়ির মালিক তার ৫০০ ইউরোর মাসিক ভাড়া বাড়িয়ে প্রথমে দুই হাজার ৬৫০ ইউরো এবং পরে এক হাজার ৬৫০ ইউরো নির্ধারণ করে। এই অঙ্ক ওই বৃদ্ধার মাসিক পেনশনের চেয়েও ৩০০ ইউরো বেশি ছিল। অসুস্থ অবস্থায় স্ট্রেচারে করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে ওঠে।

শনিবার মাদ্রিদ, ভ্যালেন্সিয়া ও বার্সেলোনাসহ প্রধান শহরগুলোর রাজপথে লাখো মানুষ নেমে আসে।

জনবিক্ষোভ শান্ত করতে সানচেজের জোট সরকার দ্রুত দুটি জরুরি ডিক্রি জারি করেছিল। প্রথম ডিক্রিতে ঝুঁকিপূর্ণ ভাড়াটেদের ২০৩০ সাল পর্যন্ত উচ্ছেদ স্থগিত রাখা, ২০২৮ সালের আগের ভাড়াচুক্তির মেয়াদ অতিরিক্ত দুই বছর বাড়ানো, পর্যটনকাজে ব্যবহৃত ফ্ল্যাটের ওপর কর বাড়ানো এবং তথাকথিত শকুন তহবিলের আবাসিক সম্পত্তি কেনার সীমা বাঁধার প্রস্তাব ছিল। দ্বিতীয় ডিক্রিটিতে চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়নের সুযোগ রাখা হয়, যা বামপন্থী দল ও ভাড়াটে সংগঠনগুলোর অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। কিন্তু দেশটির রক্ষণশীল ও ডানপন্থী দলগুলো এই পদক্ষেপের কড়া বিরোধিতা করে। পিপলস পার্টির নেতা হুয়ান ব্রাভো আইনসভায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে ডিক্রি জারি করে আবাসনের খরচ কমানো যায় না, বাজারে বাড়ির জোগান বাড়ালেই কেবল ভাড়ার চাপ কমে।

এই আইন বাতিলের সুযোগে সানচেজের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো করেছে বিরোধী দলগুলো। স্পেনের বিরোধী দলীয় প্রধান ও রক্ষণশীল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইহো সোমবারের ঘোষণার পর জানান, অবশেষে দেশের সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। তার দাবি, এটি কেবল একটি সাধারণ ভোট নয়, বরং পতন নাকি পরিবর্তন, অযোগ্যতা নাকি অগ্রগতি—স্প্যানিশদের সেই সিদ্ধান্ত বেছে নেওয়ার সময় এসেছে।

অধিকাংশ জনমত জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে রক্ষণশীল পিপলস পার্টি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকার গঠনে তাদের চরম ডানপন্থী ভক্স দলের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

banner
Link copied!