সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

যৌথ সামরিক উদ্বেগ

ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি নিরাপদ দাবি যুক্তরাজ্যের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি নিরাপদ দাবি যুক্তরাজ্যের

যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি পুরোপুরি নিরাপদ রয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট। এর আগে ওই সামরিক ঘাঁটি থেকে নিজেদের সব দূরপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা প্রায় এক ডজন বি-ওয়ান বোমারু বিমানকে নিজ দেশের মূল ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।

সামরিক বিমান প্রত্যাহারের পরপরই ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র সোমবার জানান যে বিদেশি রাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবেন না, তবে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সাম্প্রতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, দেশ-বিদেশের যেকোনো ঘাঁটি সুরক্ষায় যুক্তরাজ্যের পরীক্ষিত নিরাপত্তা সক্ষমতা রয়েছে। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ব্রিটিশ পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতার প্রশংসা করেছিলেন। তবে ব্রিটিশ সরকারের প্রশাসনিক সূত্রগুলো অস্বীকার করেনি যে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন এই বোমারু বিমানগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত ২৭ সেপ্টেম্বরের একটি গুরুতর ঘটনা। সেদিন গ্লুচেস্টারশায়ারের কটওয়াল্ডস এলাকায় অবস্থিত বিমানঘাঁটিটির কাছে তিনটি সন্দেহভাজন গাড়ির উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে সতর্ক করা হয়। পরে কাউন্টার টেররিজম পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজন ব্রিটিশ যুবককে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া না গেলেও জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়, এবং পরবর্তীতে তাদের সবাইকে পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর একই ঘটনায় যুক্ত থাকার সন্দেহে লন্ডন থেকে এক ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পরে তাকেও জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও লন্ডনের প্রতিরক্ষা মহলে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার জানান, তিনি বিমান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে গত সপ্তাহের নিরাপত্তা ঘটনার সরাসরি যোগসূত্র টানবেন না। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে ব্রিটিশ ঘাঁটির নিরাপত্তার ওপর তাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তদন্তে পুরো সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে ইরানের মদদপুষ্ট হামলার ষড়যন্ত্রের নতুন হুমকি পাওয়ার পরেই বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার দ্রুত পদক্ষেপ নেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এটি মূলত তিন সপ্তাহ আগের নিরাপত্তা সতর্কতারই ধারাবাহিকতা, কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সামরিক পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এজরা কোহেন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত বিচক্ষণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। বিবিসি রেডিও ফোরকে তিনি বলেন, বি-ওয়ান বোমারু বিমানগুলো অত্যন্ত মূল্যবান ও সীমিত কৌশলগত সম্পদ, যা এখন আর নতুন করে উৎপাদন করা হয় না; তাই যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি থেকে এগুলো রক্ষা করাই স্বাভাবিক। তবে বিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জেমস ম্যাকক্লিয়ারি এই প্রত্যাহারের ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের সামরিক ঘাঁটিগুলো কার্যকর ও সুরক্ষিত আছে কি না তা স্পষ্ট করতে সরকারের দ্রুত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করা উচিত।

কটওয়াল্ডসের ওয়েলফোর্ড গ্রামের কাছে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি কয়েক দশক ধরে মার্কিন বিমান বাহিনীর অগ্রবর্তী অপারেশনাল ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার কাজে এই ঘাঁটি থেকে বি-ওয়ান ও বি-৫২ বোমারু বিমান পরিচালিত হয়। গত জুলাইয়ে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, তাদের ওপর হামলার জন্য ব্যবহৃত যেকোনো সামরিক ঘাঁটি তাদের বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে ঘটনার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ষড়যন্ত্রে বিদেশি শক্তির ইন্ধন থাকার দাবি করলেও তেহরান এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিমানগুলো ঘাঁটি ছেড়ে চলে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

banner
Link copied!