রাশিয়ার দূরবর্তী সাইবেরিয়া অঞ্চলের একটি বিশেষায়িত প্লেগ গবেষণাগারের এক নারী কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি ২০২৬ সালের অক্টোবরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নিউমোনিক প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কিনা, তা নিয়ে ওয়াশিংটনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গভীরভাবে নজরে রাখা হলেও সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, ওয়াশিংটন ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
এখন পর্যন্ত মস্কোর সঙ্গে এ নিয়ে সরাসরি আলোচনা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, চিকিৎসা সংকটের মুখে পড়া যেকোনো দেশকে সহযোগিতা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, গবেষণাগারের ভেতরে কোনো সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেখানে কোয়ারেন্টিন কার্যকর করা হয়েছে। কোনো মারাত্মক জীবাণু গবেষণাগার থেকে বাইরে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত রূপ নিতে পারে বলেই ওয়াশিংটন প্রতি ঘণ্টার তথ্য পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি পরিস্থিতিকে উদ্বেগের বদলে বাড়তি নজরদারির কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরকুতস্কের ওই গবেষণাগারে কোনো জরুরি অবস্থা নেই বলে জানিয়েছে মস্কো।
রাশিয়ার ভোক্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা রোসপোট্রেবনাদজর জানিয়েছে, একটি বিশেষ জৈব নিরাপত্তা দল সাইবেরিয়া ও দূরপ্রাচ্যের অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন চালিয়েছে। ইরকুতস্কের আঞ্চলিক গভর্নর ইগোর কোবজেভ সরকারি বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানান, ওই নারীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে অনির্ধারিত উৎসের নিউমোনিয়া লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তাঁর জৈবিক নমুনা পরীক্ষা করে গবেষণাগারের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিপজ্জনক অণুজীবের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাধারণ মানুষকে অপ্রমাণিত গুজবে কান না দিয়ে অফিশিয়াল স্বাস্থ্য প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অনানুষ্ঠানিক কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পরীক্ষা চলাকালে জীবাণুভর্তি টেস্টটিউব দুর্ঘটনাবশত ভেঙে যাওয়ার পর ওই গবেষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। অন্য একটি তথ্যে বলা হয়, মঙ্গোলিয়া সীমান্তবর্তী যে বুরিয়াতিয়া অঞ্চলে বুনো ইঁদুরের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে প্লেগ থাকে, সেখানে গবেষণামূলক সফরের পর তিনি আক্রান্ত হন। সতর্কতা হিসেবে ওই নারী গবেষকের সংস্পর্শে আসা প্রায় দুই শত ব্যক্তিকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষীয় অণুজীববিজ্ঞানের গবেষক ড. সাইমন ক্লার্ক জানিয়েছেন, নিউমোনিক প্লেগ চিকিৎসা না করা হলে মারাত্মক রূপ নিতে পারে, তবে আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক প্রয়োগে এটি সারিয়ে তোলা সম্ভব। মানুষ থেকে মানুষে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সংক্রমণের ক্ষমতা থাকায় এমন উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক হলেও এটিকে পূর্ববর্তী মহামারির সঙ্গে মেলানো ঠিক হবে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফুসফুসে সংক্রমণকারী নিউমোনিক প্লেগের সুপ্তিকাল কখনো মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মতো স্বল্প সময়ের হতে পারে। দ্রুত শনাক্ত ও সঠিক চিকিৎসা না পেলে শ্বাসকষ্ট ও রক্তমিশ্রিত কাশির এই উপসর্গ কয়েক দিনের মধ্যে মারাত্মক জটিলতায় রূপ নিতে পারে।
