শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কলকাতায় রাস্তায় জুমার নামাজে বাধা: রাজাবাজারে চরম উত্তেজনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৫, ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

কলকাতায় রাস্তায় জুমার নামাজে বাধা: রাজাবাজারে চরম উত্তেজনা

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার রাজাবাজার ক্রসিং এলাকায় জুমার নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে জনবহুল ওই সড়কের একাংশজুড়ে নামাজ আদায় করতে গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এর ফলে স্থানীয় মুসল্লি ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

রাজাবাজার ও আশপাশের এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন রাজাবাজার মোড়ে কিছু স্থানীয় মুসলিম যুবক রাস্তায় নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জনবহুল সড়কটিতে নামাজ পড়ার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে—এমন দাবি করে পুলিশ দ্রুত তাদের সরে যেতে বলে। নামাজ আদায়কারীরা পুলিশের এই বাধা মানতে অস্বীকার করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। নামাজ আদায়কারীদের দাবি, তারা দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী এখানে নামাজ আদায় করছেন এবং প্রশাসনিক বাধা তারা মেনে নেবেন না।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকার বদলের পর জনভোগান্তি রোধে রাস্তায় ধর্মীয় জমায়েত নিয়ে নতুন কিছু কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে। এই নতুন নির্দেশিকা সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে অবগত না থাকায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই রাজাবাজার মোড় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি সামলাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র‍্যাফ (RAF)।

উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে নিরাপত্তা জোরদার করতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মুসল্লিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শুরু করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে মুসল্লিরা রাস্তা ছেড়ে দেন। তবে এই ঘটনার জেরে পুরো বিকেল জুড়ে রাজাবাজার ও তৎসংলগ্ন মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এক ধরণের অস্থিরতা ও চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে।

কলকাতা পুলিশের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে নতুন প্রশাসনিক নিয়মের বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনভোগান্তি এড়াতে সকলকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

banner
Link copied!