সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্বকাপে হাইতি: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অভাবনীয় ফুটবল যাত্রা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৮, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

বিশ্বকাপে হাইতি: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অভাবনীয় ফুটবল যাত্রা

হাইতি জাতীয় ফুটবল দল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ১৯৭৪ সালের পর এটি তাদের প্রথম অংশগ্রহণ। রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গ্যাং সহিংসতার কারণে দলটি নিজ দেশের মাটিতে একটিও ম্যাচ আয়োজন করতে পারেনি। সব ম্যাচ তারা খেলেছে কুরাসাওসহ বিভিন্ন নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কনকাকাফ বাছাইপর্বে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে তারা মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

কোচ সেবাস্তিয়েন মিগনে দলের দায়িত্বে আছেন। নিরাপত্তার কারণে তিনিও দেশে পা রাখতে পারেননি। এরপরেও খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা এবং কৌশলী ফুটবলের ওপর ভিত্তি করে দলটি সফল হয়েছে। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে নিকারাগুয়াকে হারিয়ে তারা গ্রুপের শীর্ষে ওঠে। ভের্তিয়েরেসের যুদ্ধের বার্ষিকীর দিনে এই জয় হাইতির ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নিজ দেশে উৎসবের জোয়ার বইলেও খেলোয়াড়রা নির্বাসিত জীবনেই লড়াই চালিয়ে গেছেন।

দলের স্কোয়াডে বড় ইউরোপীয় তারকা না থাকলেও অভিজ্ঞতা এবং দৃঢ়তার সমন্বয় আছে। স্ট্রাইকার ডাকেন্স নাজন দলের সর্বকালের সেরা গোলদাতা। বাছাইপর্বে তার অবদান দলের সাফল্যের অন্যতম কারণ। গোলকিপার এবং অধিনায়ক জোহনি প্লাসিদ ডিফেন্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। উলভারহ্যাম্পটনের মিডফিল্ডার জাঁ-রিকনার বেলেগার্ড মাঝমাঠ সামলাচ্ছেন। এছাড়াও সান্ডারল্যান্ডের উইলসন ইসিডরের মতো তরুণ প্রতিভা দলে গতি যোগ করেছেন। কোচ সেবাস্তিয়েন মিগনে ৪-৪-২ ফর্মেশনে আধুনিক ফুটবল উপহার দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিশ্বকাপের গ্রুপ সিতে হাইতি মুখোমুখি হবে ব্রাজিল, মরক্কো এবং স্কটল্যান্ডের। কাগজে-কলমে দলটি এই গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল প্রতিপক্ষ। কিন্তু ফুটবল মাঠের অনিশ্চয়তা যেকোনো কিছু ঘটিয়ে দিতে পারে। আগামী ১৩ জুন বোস্টনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হাইতির বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে। এরপর ব্রাজিল ও মরক্কোর বিপক্ষে লড়বে তারা। ১৯৭৪ সালের আসরে তারা ১৪টি গোল হজম করেছিল। এবার তারা সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে রক্ষণভাগ সুসংহত করতে চায়।

দলের খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন, তারা শুধু নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করছেন না, বরং পুরো জাতির স্বপ্ন কাঁধে নিয়ে মাঠে নামছেন। অনিশ্চয়তার অন্ধকার থেকে উঠে আসা এই দলটি বিশ্বকাপে অন্তত একটি পয়েন্ট কিংবা নক-আউটে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে লড়ছে। মাঠের লড়াইয়ে তাদের এই যাত্রা কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং হাইতির অদম্য মানসিকতার জয়গান। বিশ্ব ফুটবল এখন তাকিয়ে আছে এই ক্যারিবীয় দেশটির নতুন ইতিহাসের দিকে।

banner
Link copied!