লণ্ডনের দ্য ওভালে রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচে ম্যাট হেনরির বিধ্বংসী বোলিংয়ে ইংল্যান্ডকে ২৫৩ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে নিউজিল্যান্ড, ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। খেলার পঞ্চম ও শেষ দিনে জয়ের জন্য ৪৬৩ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিক ইংল্যান্ড মাত্র ২০৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। রোববারের খেলা শুরু হওয়ার মাত্র ৪৮ মিনিটের মধ্যে ইংলিশদের শেষ পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়ে কিউই পেসার ম্যাট হেনরি নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ উইকেট শিকারের অনন্য কীর্তি গড়েন। এই বড় ব্যবধানের জয়ের ফলে তিন ম্যাচের চলমান টেস্ট সিরিজটি এখন ১-১ ব্যবধানে সমতায় রয়েছে।
রোববার সকালে পাঁচ উইকেটে ১৮২ রান নিয়ে শেষ দিনের খেলা শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। ক্রিজে ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুট, যিনি আগের দিনের সংগ্রহের সাথে মাত্র দুই রান যোগ করে ৭৭ রানে ম্যাট হেনরির বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন। জো রুটের বিদায়ের পর ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে। জো রুট আউট হওয়ার ঠিক দুই বল পরেই জফরা আর্চারকে শূন্য রানে বোল্ড করেন হেনরি। নিজের পরের ওভারে তিনি ম্যাথিউ ফিশারকে শূন্য রানে বোল্ড করার পর ঠিক তার পরের বলে জশ টাঙ্গিকে ড্যারিল মিচেলের ক্যাচে পরিণত করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন।
ম্যাট হেনরি শেষ পর্যন্ত জর্ডান কক্সকে একটি চমৎকার ইনসুইঙ্গিং ইয়র্কারে বোল্ড করে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান। হেনরি এই ইনিংসে মাত্র ২৯ রান দিয়ে ছয়টি উইকেট লাভ করেন, যা প্রথম ইনিংসের ৮০ রানে পাঁচ উইকেটের সাথে যোগ হয়ে ম্যাচে তার মোট উইকেট সংখ্যা দাঁড় করায় ১১টিতে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো নিউজিল্যান্ডের বোলারের ইতিহাসে এটিই সেরা ম্যাচ ফিগার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। হেনরি এই ম্যাচে প্রথম বোলার হিসেবে জো রুট এবং হ্যারি ব্রুককে একই টেস্টের উভয় ইনিংসে আউট করার নজির স্থাপন করেন। ওভালের ঐতিহ্যবাহী মাঠে ২০০৫ সালের বিখ্যাত অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলীয় লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নের পর তিনিই প্রথম কোনো বোলার যিনি এক ম্যাচে ১০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।
নিউজিল্যান্ডের এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে প্রথম টেস্টে লর্ডসে ১১৫ রানে পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার বড় ভূমিকা ছিল। নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৯১ রান সংগ্রহ করেছিল এবং জবাবে ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানে গুটিয়ে যায়, যার ফলে কিউইরা ১০০ রানের মূল্যবান লিড পেয়েছিল। দলের অভিজ্ঞ তারকা কেন উইলিয়ামসনের অনুপস্থিতিতে প্রথম ইনিংসে গ্লেন ফিলিপসের ১০০ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে হেনরি নিকোলসের ১২১ রানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি কিউইদের বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেয়। যা কম স্পষ্ট তা হলো ইংল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং পেসার গাস অ্যাটকিনসনের আকস্মিক অনুপস্থিতি কীভাবে মাঠের খেলায় এত বড় প্রভাব ফেলল। লর্ডস টেস্টের জয়ের উদযাপনের সময় দলের নির্ধারিত কারফিউ ভাঙার অভিযোগে এই দুই তারকা খেলোয়াড়কে এই ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ইংল্যান্ডের এই বড় পরাজয় তাদের সাম্প্রতিক টেস্ট রেকর্ডের ওপর আরও বড় ধাক্কা দিয়েছে কারণ তারা তাদের শেষ আটটি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতেই পরাজিত হয়েছে। এই ম্যাচে স্বাগতিক দল তাদের স্কোয়াডে পাঁচটি পরিবর্তন এনেছিল যার মধ্যে তিনজনের টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটেছিল। আগামী সপ্তাহে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ট্রফি নিজেদের করে নিতে দুই দলই মাঠে নামবে। সিরিজের শেষ ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং সেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করা হচ্ছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বেন স্টোকস এবং গাস অ্যাটকিনসন শেষ ম্যাচে দলে ফিরলে ইংল্যান্ড আবার তাদের চেনা ছন্দে ফিরতে লড়াই করতে পারবে।
