শনিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফিফার বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৩১, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম

ফিফার বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধ

আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার শীর্ষ পর্যায়ে চরম অসন্তোষ ও অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামৌর প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছেন যে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা সম্পর্কে কর্মচারীদের পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হয়েছিল এবং তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপের লভ্যাংশের অংশ বেসরকারি ইকুইটি তহবিলের কাছে বিক্রির যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা নিয়ে ফুটবলের অন্দরমহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

কেভিন লামৌর তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ একক কোনো ব্যক্তির পরিকল্পনা এবং এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে কর্মচারীরা কেবল অবহেলা ও ভয়ভীতির শিকার হয়েছেন এবং তাদের আরও ভালো সম্মান প্রাপ্য। এই ঘটনার ঠিক আগেই ফিফা সভাপতির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস করদেইরো পদত্যাগ করেছেন। সাবেক গোল্ডম্যান স্যাক্স ব্যাংকার এবং যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি করদেইরো তার পদত্যাগপত্রে জানান যে তিনি এই পদক্ষেপে তীব্রভাবে বিরোধিতা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে নিউইয়র্কের একটি বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে কুশনার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত এই কুড়ি বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক সাবসিডিয়ারি গঠন করার সিদ্ধান্তটি ফুটবলের জন্য একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর চুক্তি।

করদেইরো আরও বলেন যে ফিফার ভাণ্ডারে পর্যাপ্ত আর্থিক সম্পদ ও মূলধন সংরক্ষিত রয়েছে এবং সংস্থার কোষাগারে কয়েক বিলিয়ন ডলার জমা আছে। এমন একটি শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের পরেও ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান এই সম্পত্তিটির স্থায়ী অংশ বিক্রি করে চার দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের উদ্যোগকে তিনি ভবিষ্যতের বন্ধক রাখা বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে এই ধরনের দূরদর্শীহীন সিদ্ধান্ত ফুটবলের কল্যাণের চেয়ে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত লাভের কথা চিন্তা করেই নেওয়া হচ্ছে। করদেইরোর পদত্যাগের পর ফিফার ভেতরে অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদেরও মুখ খুলতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে কেভিন লামৌর তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এই একতরফা পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করলেও নিজের পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেননি। তবে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে সহকর্মীদের প্রতি তার দায়িত্ব রয়েছে এবং এর কারণে যদি তাকে চাকরি হারাতে হয় তবে তিনি তা মাথা পেতে মেনে নেবেন। ফুটবলের প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের আগে দীর্ঘ দুই দশক ধরে রাজনীতি ও কূটনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই ফরাসি কর্মকর্তা আফ্রিকান ও এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। ফিফার আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য নির্ধারিত সময়ের শেষ সীমার মধ্যেই অভ্যন্তরীণ বিরোধের এই পরিস্থিতি ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা সভাপতির এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাণিজ্যিক কাঠামোতে এক সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আসবে। ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। নিউইয়র্কের বিনিয়োগ তহবিলের সঙ্গে এই চুক্তি নিয়ে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে অস্বস্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। আগামী মাসগুলোতে এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

banner
Link copied!