আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আগামী দুই হাজার ত্রিশ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে দলের সংখ্যা আটচল্লিশ থেকে বাড়িয়ে চৌষট্টিটিতে উন্নীত করার সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে। রয়টার্সের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নথির মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। টুর্নামেন্টের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত দুই হাজার ছাব্বিশ সালের আসরে দলের সংখ্যা বত্রিশ থেকে বাড়িয়ে আটচল্লিশ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তির পরেই ফিফা আরও বড় পরিসরে টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা চিন্তা করছে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবল গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিয়েছিল যেন শতবর্ষী এই বিশ্বকাপে চৌষট্টিটি দল অংশ নেয়। সেই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই ফিফা এখন এই দ্রুতগতির সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে।
ফিফার গবেষণা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে সংস্থাটি একটি স্বাধীন সংস্থাকে এই দায়িত্ব দিতে চায়। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সমীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়িত হবে যে এত বড় পরিসরে টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে প্রতিযোগিতার মান, মাঠের আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক স্থায়িত্বের ওপর কেমন প্রভাব পড়বে। তবে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ইতিমধ্যেই নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থা অতিরিক্ত দল বাড়ানোর এই ধারণার তীব্র সমালোচনা করেছিল। বিশেষ করে খেলার সূচির দীর্ঘসূত্রিতা এবং খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত শারীরিক চাপের বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এছাড়া সম্প্রতি ফিফার একটি বিশ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক সাবসিডিয়ারি গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপীয় মহলে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর জেরে ফিফা ইভেন্টগুলো বয়কটের মতো কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কয়েকটি ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা যদি শেষ পর্যন্ত চৌষট্টি দলের ফরম্যাট চূড়ান্ত করে তবে বিশ্ব ফুটবলের বাণিজ্যিক ও সাংগঠনিক কাঠামোটতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে। এত বিপুলসংখ্যক দল নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি একটি টুর্নামেন্ট সফলভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলকে আরও বেশি জনপ্রিয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী মাসগুলোতে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন বিশাল পরিবর্তন এর আগেও দেখা গেছে। তবে ষাটটিরও বেশি দল নিয়ে একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে লজিস্টিকস, যাতায়াত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সংখ্যা বাড়লে বাছাইপর্বের বিন্যাস এবং গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর সংখ্যাও বহুগুণ বেড়ে যাবে। এর ফলে টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব এবং গ্লোবাল স্পন্সরিংয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে। ফিফার নিয়োগকৃত স্বাধীন সংস্থা এই সমস্ত বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। ক্রীড়াপ্রেমী ও ফুটবল সমর্থকরা এখন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
