ফিফার চলমান প্রশাসনিক সংকটের জেরে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের প্রধান ভিক্টর মন্টোগ্লিয়ানি শুক্রবার ফিফা প্রধানের কাছে এই মর্মে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। বিশ্ব ফুটবলের এই শীর্ষ কর্মকর্তার উপস্থিতি টুর্নামেন্টের মূল আকর্ষণ নষ্ট করতে পারে বলে চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফুটবলের একাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রির একটি বিতর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করার পর থেকেই ফিফার ভেতরে ও বাইরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন উয়েফা এবং এশিয়ান ফুটবল কনসিডারেশনের পাশাপাশি কনকাকাফও বর্তমান সভাপতির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে। বিশ্ব ফুটবলের এই তিন প্রভাবশালী মহাদেশীয় সংস্থার যৌথ চাপে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে ক্যারিবীয় ফুটবল ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত অনূর্ধ্ব-চৌদ্দ বছরের টুর্নামেন্টে যোগ দেওয়ার পূর্ব পরিকল্পনা ছিল ফিফা সভাপতির। স্থানীয় ক্রীড়ামন্ত্রী ও অন্যান্য কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিলেও কনকাকাফ প্রধান মনে করেন যে তার উপস্থিতি মাঠের প্রতিযোগিতার চেয়ে মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে বর্তমান গভর্ন্যান্স সংকটের কারণে সৃষ্ট মিডিয়ার অতি মনোযোগ যুব ক্রীড়া উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে। এই ধরনের জমায়েত টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্যকে অন্যদিকে পরিচালিত করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বর্তমানে ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সদস্য দেশের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু দেশ এখনও তার পক্ষে থাকলেও ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার জোরালো বিরোধিতার কারণে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ফিফা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে আলোচনা চলছে যে এই সংকটময় পরিস্থিতি কীভাবে সমাধান হবে এবং আগামী নির্বাচনে এর কী ধরনের প্রভাব পড়বে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভ্যন্তরে বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় আগামী দিনে আরও বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বৈঠকের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
