নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সেন্ট জেমস পার্কে গত সপ্তাহে ব্রাইটনের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়ের দিনে একটি বিশেষ দৃশ্য ফুটবল ভক্তদের নজরে এসেছে। ম্যাচটিতে কিয়েরান ট্রিপিয়ার বেঞ্চে থাকলেও তাকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে তিনি অব্যবহৃত বদলি খেলোয়াড় হিসেবে বসে আছেন। পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি টাচলাইনের পাশে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের চিৎকার করে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন, যা মূলত একজন কোচের ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। ৩৫ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার নিউক্যাসলে তার চুক্তির শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন এবং এখন ফুটবল বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে তার পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে।
বিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রিপিয়ারের বর্তমান লক্ষ্য এই মৌসুমটি নিউক্যাসলের হয়ে সাফল্যের সাথে শেষ করা। তবে পর্দার আড়ালে তিনি এরই মধ্যে খেলোয়াড়ি জীবনের পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। তার ইচ্ছা অবসরের পর কোচিং পেশায় যুক্ত হওয়া। ব্রাইটনের বিপক্ষে তার সক্রিয় উপস্থিতি সেই ভবিষ্যতেরই একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। নিউক্যাসলে তার সাড়ে চার বছরের দীর্ঘ সফর এখন এক আবেগঘন সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
নিউক্যাসলের এই রূপান্তরের পেছনে ট্রিপিয়ারের ভূমিকা ছিল অনন্য। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে যখন তিনি যোগ দেন, তখন ক্লাবটি রেলিগেশনের ঝুঁকিতে ছিল। তৎকালীন সময়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফুটবল ছেড়ে রেলিগেশন লড়াইয়ে যোগ দেওয়াকে অনেকেই অর্থের লোভ বলে সমালোচনা করেছিলেন। তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ট্রিপিয়ার মূলত পারিবারিক কারণে উত্তর ইংল্যান্ডে ফিরতে চেয়েছিলেন এবং নিউক্যাসলের বর্তমান হেড কোচ এডি হাউয়ের সাথে পুনরায় কাজ করার জন্য বেতন কমাতেও রাজি হয়েছিলেন। তার আগমন ক্লাবটিতে ব্রুনো গুইমারেসের মতো আরও অনেক তারকাকে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
সাবেক সতীর্থ ক্যালাম উইলসন ট্রিপিয়ারকে একজন ‘নিঃস্বার্থ নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গত মৌসুমে নিউক্যাসলের ইএফএল কাপ জয়ের মুহূর্তে ট্রিপিয়ার নিজে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার চেয়ে দলের সবাইকে নিয়ে তা উদযাপন করতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। জনজো শেলভির মতে, ট্রিপিয়ার এমন একজন মানুষ যিনি বিপদের সময় ড্রেসিংরুমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জানেন। বিশেষ করে রেলিগেশনের ভয়াল দিনগুলোতে তার শান্ত মেজাজ ও অভিজ্ঞতা নিউক্যাসলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছিল। এডি হাউ তাকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং শৃঙ্খলার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রিপিয়ারের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু জানা না গেলেও তিনি দেশের বাইরে বা ইংল্যান্ডের অন্য কোনো ক্লাবে খেলার বিষয়ে মন খোলা রেখেছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তার তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ একটি বড় বিবেচ্য বিষয় হবে। ক্লাব ও জাতীয় দল ইংল্যান্ডের হয়ে ৫৪টি ম্যাচ খেলা এই তারকা এখন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে। নিউক্যাসলের ড্রেসিংরুমে তার প্রস্থান একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে তা নিশ্চিত, তবে কোচ হিসেবে তার নতুন সফরের অপেক্ষায় থাকতেই পারেন ভক্তরা।
