মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন আইসক्यूबের ফ্রান্সিস হালজেন —

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন আইসক्यूबের ফ্রান্সিস হালজেন —

মহাকাশের দূরবর্তী উৎস থেকে আসা অদৃশ্য কণা শনাক্তের বৈপ্লবিক পথ দেখিয়ে চলতি ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জিতে নিয়েছেন বেলজিয়ামের পদার্থবিদ অধ্যাপক ফ্রান্সিস হালজেন। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। দক্ষিণ মেরুর বরফে স্থাপিত আইসক्यूब নিউট্রিনো মানমন্দির নির্মাণ এবং উচ্চ-শক্তির মহাজাগতিক কণা আবিষ্কারে তাঁর অসামান্য নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ টেলিস্কোপ যেখানে পৌঁছাতে পারে না, হালজেনের উদ্ভাবিত কৌশল সেখানে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি পৌঁছে দিয়েছে।

১৯৮৮ সালে তিনি প্রথম এই ধারণার অবতারণা করেছিলেন।

অ্যান্টার্কটিকার ভৌগোলিক দক্ষিণ মেরুর ভূগর্ভে বরফের এক ঘনকিলোমিটার গভীর এলাকাজুড়ে এই মানমন্দির গড়ে উঠেছে। বরফে বিশেষ ড্রিলিং প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ তারের সাথে হাজার হাজার সংবেদনশীল আলোক ডিটেক্টর শক্তভাবে জমাট বাঁধিয়ে স্থাপন করা হয়। মহাবিশ্বের গভীর থেকে ছুটে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো কণা সরাসরি কোনো বস্তুর সঙ্গে সচরাচর বিক্রিয়া করে না। কিন্তু অতি দুর্লভ মুহূর্তে যখন একটি নিউট্রিনো বরফের পারমাণবিক নিউক্লিয়াসে সরাসরি আঘাত হানে, তখন দ্রুতগামী চার্জযুক্ত কণা তৈরি হয় এবং বরফের ভেতরে মৃদু নীল আলোর সৃষ্টি হয়।

বরফের গভীরে বসানো যন্ত্র সেই আলোর নকশা ও সময় ধরে কণার গতিপথ ও উৎস ঠিক করে।

সূর্য থেকে প্রতি মুহূর্তে বিপুল সংখ্যক সাধারণ নিউট্রিনো তৈরি হচ্ছে এবং প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি কণা কোনো বাধা বা ক্ষতি ছাড়াই মানবদেহের ভেতর দিয়ে চলে যায়। আইসক्यूब সাধারণ সৌর নিউট্রিনো নয়, বরং সৌরজগতের সীমানা পেরিয়ে দূরবর্তী কোনো ধ্বংসোন্মুখ তারা কিংবা সুবিশাল কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশের মহাপ্রলয়ঙ্কর পরিবেশ থেকে আসা অত্যন্ত উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই কণাগুলোর কোনো নিজস্ব বৈদ্যুতিক চার্জ নেই, ফলে মহাকাশের সুবিশাল চৌম্বক ক্ষেত্র এদের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে না। আলোর রশ্মি যেখানে ঘন মেঘ বা ধূলিকণায় আটকে যায়, নিউট্রিনো সেখানে কোনো বিকৃতি ছাড়াই কোটি কোটি আলোকবর্ষ পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর বরফে পৌঁছায়।

পুরস্কার ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক হালজেন জানান, এই প্রকল্প যে বাস্তবে এমন নিখুঁত ফল দেবে তা তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন না। তাঁর ভাষায়, প্রকল্প শুরুর সময় অনেকে এটিকে ভালো ধারণা বললেও বাস্তবে এটি সফল হতে পারে বলে খুব কম মানুষই মনে করতেন, এমনকি তিনি নিজেও শতভাগ আশাবাদী হতে পারেননি। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমির নোবেল কমিটির সভাপতি মার্ক পিয়ার্স জানান, হালজেনের দৃঢ় সংকল্প এবং বৈজ্ঞানিক দূরদর্শিতা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে। আন্তর্জাতিক গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি বিশাল দল তাঁর নির্দেশনায় কাজ করে এই জটিল মানমন্দির বাস্তবায়ন করেছে।

লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্সের বিজ্ঞান পরিচালক লুইস বার্সন উল্লেখ করেছেন, সাধারণ মানমন্দিরগুলো মহাকাশের যেসব চরম ও রহস্যময় প্রক্রিয়া দেখতে অক্ষম, আইসক्यूब সেই বাধা দূর করে জ্যোতির্বিদদের জন্য এক অনন্য জানালা উন্মোচন করেছে।

মহাবিশ্ব সৃষ্টির গভীর রহস্য উদঘাটনে আইসক्यूब থেকে পাওয়া তথ্য ও মানচিত্র বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন পর্যবেক্ষণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

banner
Link copied!