মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইকুয়েডরের মাদকের বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে পুলিশ বাহিনী

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

ইকুয়েডরের মাদকের বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে পুলিশ বাহিনী

লাতিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের ডুরান শহরে মাদক চক্র ও অপরাধী গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ বাহিনী, যেখানে অপরাধীদের পাশাপাশি দপ্তরের ভেতরের দুর্নীতিও এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিবিসি নিউজ জানিয়েছে। দেশটির তরুণ পুলিশ ক্যাপ্টেন জ্যঁ কার্লোস বুস্তামাতে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন যে তাদের নিজস্ব দপ্তরের ভেতরেও গ্যাংগুলোর অনুগত অসৎ ব্যক্তিরা সক্রিয় রয়েছে। মাত্র চৌত্রিশ বছর বয়সী এই পুলিশ কর্মকর্তা তার বিশ্বস্ত একটি বিশেষ দলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন অপরাধের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে চলেছেন।

স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুটি হাতানুকুল অস্ত্র এবং একটি অ্যাসল্ট রাইফেলের গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে যা গ্যাং সদস্যদের লুকানো ছিল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্যাপ্টেন বুস্তামাতে জানিয়েছেন যে এই ধরনের অভিযানগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের অস্ত্রভান্ডার কমাতে বদ্ধপরিকর। গ্যাংগুলোর ভয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না কারণ অপরাধীরা সামান্য প্রতিবাদের জন্য চরম পরিণতি ডেকে আনে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেশী কলম্বিয়া ও পেরু থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে বিশাল পরিমাণ মাদক ইকুয়েডরের ভেতর প্রবেশ করছে এবং সেখান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পাচার করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া এর আগে জানিয়েছেন যে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করা প্রায় সত্তর শতাংশ কোকেন ইকুয়েডরের বিভিন্ন বন্দর ও উপকূলীয় পথ ব্যবহার করে পাচার হয়ে থাকে। দুর্বল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অপর্যাপ্ত নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে মেক্সিকান কার্টেল ও আলবেনিয়ান মাফিয়া চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্থানীয় গ্যাংগুলো এই রুট নিয়ন্ত্রণ করছে।

এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র থেকে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি রক্তাক্ত অপরাধ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের এই বিশেষ দলগুলো প্রতিদিন নিজেদের জীবন বিপন্ন করে অপরাধ দমনের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও রাষ্ট্রীয় সম্পদের তুলনায় অপরাধী চক্রের আর্থিক সক্ষমতা অনেক বেশি বলে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন। এই মাদক যুদ্ধের কারণে একদিকে যেমন অসংখ্য তরুণ জীবন হারাচ্ছে অন্যদিকে তেমনি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠা এবং সহকর্মীদের হারানোর বেদনা সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন বুস্তামাতে এবং তার সহযোদ্ধারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংবাদমাধ্যম এই পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে এবং ইকুয়েডর সরকারের এই মাদক বিরোধী উদ্যোগের ফলাফল কী হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। অপরাধ চক্রের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব দমন না করা গেলে গোটা অঞ্চল আরও বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

banner
Link copied!