উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তি কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর একটি জোট। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে এই কর্মীরা বিদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশটির নিষিদ্ধ পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের একাধিক সরকারি সংস্থার যৌথ বিবৃতিতে এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয় যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এসব প্রযুক্তি কর্মী চুরিকৃত পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিচ্ছেন এবং অর্জিত অর্থ সরাসরি রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাইবার অপরাধ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির মতো অবৈধ কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে। আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার করে এই জালিয়াতি নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক নিয়োগ প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের ছদ্মবেশে দূরবর্তী কাজ সংগ্রহ করে এসব কর্মী তথ্য পাচার ও কর্পোরেট সাইবার অপরাধ পরিচালনা করছেন। রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলোতে স্থানীয় সহযোগীদের সহায়তায় বিশেষ ল্যাপটপ ফার্ম স্থাপন করে দূর থেকে এই গোপন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
উত্তর কোরিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করে চলেছে। দুই হাজার তেইশ সালে দেশটির সংবিধানে পারমাণবিক দেশের মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও পিয়ংইয়ং তাদের সামরিক উচ্চাশা থেকে একচুলও পিছিয়ে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে কোম্পানিগুলোকে নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইকরণ এবং হার্ডওয়্যার পরীক্ষা প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পশ্চিমা জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই কর্মীরা কর্পোরেট সংস্থার ভেতরে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করছে। তথ্য চুরি এবং সংবেদনশীল গোপনীয়তা ফাঁসের ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেক বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো শক্তিশালী দেশগুলো যৌথভাবে এই নিরাপত্তা নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতের বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় এই সাইবার নেটওয়ার্ক দমন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার এই সাইবার তৎপরতা বৈশ্বিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে এবং এর আর্থিক উৎস বন্ধ করতে যৌথভাবে কাজ করছে। তবে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে বরাবরের মতোই অনমনীয় ও কঠোর মনোভাব বজায় রাখা হয়েছে। আগামী দিনে এই সাইবার সংকট মোকাবিলায় আরও জোরালো কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
