শনিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

স্পেনের কেউতায় অভিবাসী সংকটে সামরিক বাহিনী মোতায়েন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ১, ২০২৬, ১২:৩২ এএম

স্পেনের কেউতায় অভিবাসী সংকটে সামরিক বাহিনী মোতায়েন

মরক্কো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল কেউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর আকস্মিক প্রবেশের পর সেখানে সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে স্থল ও জলপথ দিয়ে স্পেনের এই ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় অন্তত চৌত্রিশ জন মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ওই অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার ব্যক্তিগতভাবে কেউটা সফর করেন এবং সেখানে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন।

গত কয়েক দিনে প্রায় ৬০,০০০ মানুষ কেউটায় প্রবেশ করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ নিশ্চিত করেছেন। এই সংখ্যাটি কেউটা ছিটমহলের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিবাসী সংকটের সৃষ্টি করেছে। এই বিপুল জনস্রোতের ফলে পুরো ইউরোপজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ফরাসি সরকার তাদের সীমান্তজুড়ে কড়া নজরদারি ও তল্লাশি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি স্পেন ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের পক্ষ থেকেও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করতে নতুন কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় রাজনৈতিক মহলের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা সেনজেন চুক্তি থেকে স্পেনকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি তুলেছেন। মরক্কো সংলগ্ন এই সীমান্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপ থাকলেও সাম্প্রতিক এই নজিরবিহীন ঘটনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ত্রাণকর্মীরা এই বিশাল জনস্রোত সামাল দিতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছেন। উদ্ধারকাজ ও সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো অত্যন্ত সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যকার এই অভিবাসন নীতিগত বিরোধ ভবিষ্যতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি মানবিক সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি জোরালো হচ্ছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তবে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের স্রোত থামানো এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আসা সাধারণ মানুষের এই দুর্দশা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ বলে বিভিন্ন সংস্থা মত দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বৈঠকে এই সংকট নিরসনে নতুন কোনো কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

banner
Link copied!