শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

পিটিআই নেতার হাসপাতালে স্থানান্তর নিয়ে অবমাননার মামলা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

পিটিআই নেতার হাসপাতালে স্থানান্তর নিয়ে অবমাননার মামলা

কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের হাসপাতাল স্থানান্তর নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), শনিবার রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কারাবন্দী নেতাকে নির্ধারিত বেসরকারি হাসপাতালে না নিয়ে একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পিটিআইয়ের আইনি উপদেষ্টা নাঈম পানজুথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এই আবেদনে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের একটি তিন সদস্যের বিচারক বেঞ্চ আদিয়ালা কারাগার থেকে ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষ আদালতের সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে গত শুক্রবার গভীর রাতে তাকে সরকারি খাতের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে সংক্ষিপ্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায় এবং পরে আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনে। দলীয় নেতাকর্মীদের তৈরি নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাত দিয়ে এই স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পিটিআই নেতারা অভিযোগ করেছেন যে এই পুরো প্রক্রিয়াটি আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশের লঙ্ঘন এবং এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় কারাবন্দী নেতার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রীসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা সরকারের এই পদক্ষেপকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে তাকে নির্ধারিত বেসরকারি হাসপাতালে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

কারাবন্দী নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার পরিবার ও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন যে দীর্ঘসময়ের কারাবাসের ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। ইতিপূর্বে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে মেডিকেল বোর্ডের পরীক্ষায় তাকে সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে এবং কোনো তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। তবে বিরোধীদের মতে এই ধরনের পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে যা দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

যা এখনও স্পষ্ট নয় তা হলো সুপ্রিম কোর্ট এই অবমাননার মামলার শুনানিতে কী ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দক্ষিণ এশিয়ার এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছেন। আগামী দিনে এই আইনি লড়াই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

banner
Link copied!