সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২ শিশুসহ ১১ জন নিহত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২ শিশুসহ ১১ জন নিহত

দক্ষিণ লেবাননের কাফার রেমান শহরে সোমবার ভোরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই শিশু ও দুই চিকিৎসাকর্মীসহ অন্তত ১১ জন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে।

ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির বিস্তারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান কাফার রেমান শহরের একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে সরাসরি আঘাত হানে। এই ভয়াবহ হামলায় দুই শিশুসহ নয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এছাড়া ধ্বংসপ্রাপ্ত ওই ভবনের আরও পাঁচজন বাসিন্দা গুরুতর আহত হয়েছেন। একই শহরে একটি বেসামরিক গাড়িতে পৃথক ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় গাড়ির ভেতরে থাকা দুই চিকিৎসাকর্মী প্রাণ হারান।

অন্যদিকে, দেইর আল-জহরানি শহরে একটি আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রাতভর হামলা চালিয়েছে, যার আগে স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে একটি উচ্ছেদ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর একটি স্থাপনার কাছাকাছি একটি ভবনকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। এর ঠিক এক দিন আগে নাবাতিহ জেলার নিকটবর্তী আরব সালিম শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছিলেন।

গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা করে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি সাময়িক রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এই চুক্তির অধীনে একটি পরীক্ষামূলক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা চালু করা হয়। এই পাইলট জোনগুলোর উদ্দেশ্য ছিল লেবাননের সেনাবাহিনীকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার সুযোগ দেওয়া এবং পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার নিশ্চিত করা। কিন্তু আল জাজিরার স্থানীয় সংবাদদাতার তথ্যমতে, ইসরায়েল এখনো দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি গ্রাম দখল করে রেখেছে এবং নতুন করে কোনো সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এই কারণে পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বর্তমানে থমকে গেছে এবং গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলার নতুন ঢেউ দক্ষিণ লেবাননে চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। জুন মাসে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর অনেক বাস্তুচ্যুত মানুষ আশা করেছিলেন যে হামলা হয়তো পুরোপুরি বন্ধ হবে। কিন্তু কাফার রেমান শহরের উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ বেঁচে নেই এবং তারা এখন কেবল মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ করছেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, চিকিৎসাকর্মী ও শিশুদের উপস্থিতির বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবগত ছিল কিনা, সে বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চের পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৪ হাজার ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১৭৯টি হামলায় মোট ১৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।

banner
Link copied!