গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে হিমালয় অঞ্চলে সৃষ্ট আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার ৩৮০ জনের প্রাণহানির পর সোমবার নেপালে জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে বলে রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে।
নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ১৩তম দিনে দেশ ও বিদেশের সব সরকারি কার্যালয় এবং মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী এটি শোক পালনের শেষ দিন। সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং বন্যাদুর্গত এলাকায় এখনো উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় সরকার এই দিনে বড় কোনো রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির আয়োজন করেনি। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের কর্মকর্তা ফণীন্দ্র পৌডেল রয়টার্সকে জানান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় আপাতত কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ের একটি হিমবাহ ভেঙে পড়ার পর কাদা ও পাথরের বিশাল স্তূপ নদীতে ধসে পড়লে এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩৮০ জন নিহত হয়েছেন এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ। এর মধ্যে গত কয়েক দিনে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে একজন চীনা নাগরিকসহ মোট চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিখোঁজদের স্বজনেরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হয়ে উদ্ধারকাজ জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন, যারা খরস্রোতা ভোতেকোশি নদীতে ভেসে গেছেন অথবা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। নিখোঁজ ভূতাত্ত্বিক স্বামীর সন্ধানে আসা সুমনা শ্রেষ্ঠা জানান, ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো উদ্ধার তৎপরতার খবর পাননি। একইভাবে আরেক নিখোঁজ প্রকৌশলীর ভাই মহেশ প্রসাদ শ্রেষ্ঠা অভিযোগ করেন যে, কর্তৃপক্ষ বিপর্যয়ের ছয়-সাত দিন পর হেলিকপ্টারে করে কেবল একটি ছোট খননযন্ত্র পাঠিয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
নেপাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বর্তমানে ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় উদ্ধারকাজ কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং আরও ৫০০ জন বিভিন্ন টানেলের ভেতর আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি চালাতে ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে নিরলস কাজ করছে।
