ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান প্রতিহত করে নতুন ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী। তীব্র লড়াইয়ের পর রবিবার পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজের গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টলাইনগুলোতে সরকারি সেনারা নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করে পাল্টা অগ্রগতি শুরু করে। অন্যদিকে এই স্থলযুদ্ধের মধ্যেই সৌদি আরবের একটি প্রধান বিমানঘাঁটিতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুথিরা।
লোহিত সাগর তীরবর্তী এই অঞ্চলে সংঘাত এখন নতুন রূপ নিচ্ছে।
সরকারি সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পশ্চিম উপকূলের কৌশলগত মোখা বন্দর, জুবাব এবং এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়া হুথি যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে দফায় দফায় বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। রবিবার ক্বদহা ফ্রন্টলাইনে বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণ সফলভাবে আটকে দেওয়ার পর সরকারি যোদ্ধারা তাদের পুরোনো অবস্থানগুলো পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সেখানে মোতায়েন থাকা সামরিক ইউনিটগুলো পিকআপ ট্রাকে ভারী কামান বসিয়ে সড়কগুলোতে কড়া তল্লাশিচৌকি স্থাপন করেছে। ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর এই অগ্রযাত্রাকে সামরিক বিমান থেকে অবিরাম গোলাবর্ষণ করে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
স্থলভাগে পিছু হটার খবরের মধ্যেই সৌদি আরবের ভেতরে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয় হুথিরা।
সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আনসারুল্লাহ নামে পরিচিত হুথি গোষ্ঠী জানায়, তারা কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হেনেছে। তাদের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বিমানঘাঁটির ভেতরে যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, সামরিক রাডার ব্যবস্থা, উড্ডয়ন রানওয়ে এবং গোলাবারুদের ডিপোগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে নিশানা করা হয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, গত পাঁচ দিনে ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে সৌদি জোট তিন শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে, যার সরাসরি জবাবে এই পাল্টা আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছে।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এই কথিত হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে রবিবার দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ আভা শহর এবং খামিস মুশাইত অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য স্বল্প সময়ের একটি সতর্কতা সংকেত জারি করেছিল, যা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর দ্রুত প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
