রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

সুদানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা

উত্তর সুদানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা: ছয় রাজ্যে জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম

উত্তর সুদানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা: ছয় রাজ্যে জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত

উত্তর সুদানের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গত মঙ্গলবার ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটিতে আকস্মিক আগুন ধরে যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নদী নীল রাজ্যের আবু হামাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

জাতীয় রাজধানী খার্তুম থেকে প্রায় ৫৩৮ কিলোমিটার বা ৩৩৪ মাইল উত্তরে অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। হামলার সময় কেন্দ্রের আশপাশের বাসিন্দারা বেশ কয়েকটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। মুহূর্তের মধ্যে আগুন কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপে ওই স্থাপনাটিতে বড় ধরনের আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। গত সোমবার থেকে সুদানের ছয়টি রাজ্যে ড্রোন হামলার মাধ্যমে মোট ১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

হামলার শিকার হওয়া অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে খার্তুম, গেজিরা, সেন্নার, গেডারেফ, নদী নীল এবং লোহিত সাগর রাজ্য। তবে এই হামলা নিয়ে সুদানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এমনকি হতাহতের সংখ্যা বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত কোনো বিবরণও প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে গত শনিবার লোহিত সাগর রাজ্যে নির্মাণাধীন হাইয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রেও একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। ঠিক তার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের এই হামলার ঘটনা ঘটল।

সুদান সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের চলমান গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর এসব হামলা বারবার ঘটছে।

২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশের দুই প্রভাবশালী সামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে এই সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়। মূলত সামরিক বাহিনী একীভূত করার প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল।

দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত দশ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ।

দেশজুড়ে চলমান এই লড়াইয়ের ফলে মানবিক সংকট দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। সেই সঙ্গে প্রকট হয়ে উঠেছে তীব্র খাদ্য সংকট।

banner
Link copied!