শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি খুলতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৯, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

হরমুজ প্রণালি খুলতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এইচএমএস ড্রাগনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো তাদের সতর্কতামূলক পরিকল্পনারই একটি অংশ। এর উদ্দেশ্য হলো, যখনই মিত্র দেশগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে, তখনই যেন এই রণতরীটি সরাসরি অ্যাকশনে নামতে পারে। গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। বিশেষ করে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ তৈরি হয়।

এইচএমএস ড্রাগন বর্তমানে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করছিল, যেখানে এটি সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলোর আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে ছিল। সেখান থেকেই জাহাজটিকে এখন নতুন মিশনে মধ্যপ্রাচ্যের মূল ভূখণ্ডের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে। রয়্যাল নেভির টাইপ ৪৫ এয়ার ডিফেন্স ডেস্ট্রয়ার হিসেবে পরিচিত এই জাহাজটি অত্যন্ত আধুনিক রাডার ও মিসাইল সিস্টেমে সজ্জিত, যা যেকোনো আকাশপথের হুমকি ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করতে সক্ষম। ব্রিটিশ সরকারের বিশ্বাস, এই রণতরীর উপস্থিতি ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথে কোনো ধরণের সামরিক অস্থিরতা বা অবরোধ তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মিশনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রায় ৪০টি দেশ এই মিশনে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

লন্ডনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মোতায়েন কেবল একটি সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং এটি কূটনৈতিকভাবেও ইরানের প্রতি একটি বার্তা। যুক্তরাজ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা আন্তর্জাতিক নৌ-আইন রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এইচএমএস ড্রাগনের পাশাপাশি আরএফএ লাইম বে নামক একটি সাপোর্ট জাহাজকেও ড্রোন শনাক্তকরণ ও মাইন পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি এই মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছেন। তার মতে, হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের অর্থনীতির জন্য জরুরি।

বর্তমানে ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে এই মাসের শুরুতে মার্কিন বাহিনী কয়েকটি ইরানি ট্যাংকারের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পর নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই ব্রিটিশ রণতরীর এই আগমন ওই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যকে নতুন রূপ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়্যাল নেভি জানিয়েছে, তাদের নৌ-সেনারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তারা ফরাসি নৌবাহিনীর সাথে সমন্বিত মহড়া শুরু করবে।

banner
Link copied!