হুথি যোদ্ধাদের সাথে তীব্র লড়াইয়ের পর উত্তর আল জউফ প্রদেশের একটি কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
আল জউফে নিযুক্ত সেনাবাহিনীর মাঠ পর্যায়ের কমান্ডার কর্নেল রাবি আল কুরাশি জানিয়েছেন, সরকারি বাহিনী প্রাদেশিক রাজধানী আল হাজমের পূর্বে অবস্থিত পুরো হুওয়াইশিয়ান পাহাড়ি রেঞ্জের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। হুথিদের সাথে সংঘর্ষের পরই এই অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়।
এই সামরিক অভিযানে বিমান বাহিনী সহায়তা দিয়েছে এবং হুথি গোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি যানবাহন ধ্বংস করে দিয়েছে বলে জানান তিনি।
আল কুরাশির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ি এই এলাকাটি বর্তমানে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা আল হাজম শহরের প্রধান প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে কাজ করে আসছিল।
স্থানীয় ইয়েমেনি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উঁচু এই ভূখণ্ডটি দখলে নেওয়ার ফলে সরকারি বাহিনীর জন্য প্রদেশে হুথিদের যোগাযোগের মূল পথগুলো বিচ্ছিন্ন করা সহজ হবে। এছাড়া এই পাহাড়গুলো আল হাজমের কাছাকাছি থাকা হুথিদের প্রধান অবস্থানগুলোর ওপরও কৌশলগতভাবে আধিপত্য বিস্তার করে।
শুক্রবার সংঘর্ষের সময় সরকারি বাহিনী পাহাড়ি রেঞ্জটির কিছু অংশ দখল করে নিয়েছিল এবং শনিবারের মধ্যে পুরো এলাকার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
ভূগোলগত দিক থেকে আল জউফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল, কারণ এর একদিকে সৌদি আরব সীমান্ত রয়েছে এবং অন্যদিকে হুথি নিয়ন্ত্রিত সাদা, আমরাল ও সানা প্রদেশগুলোর কাছাকাছি অবস্থান করছে।
পাশাপাশি এই প্রদেশটি সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা তেলসমৃদ্ধ হাদরামাউত এবং মারিব প্রদেশেরও সীমানা ঘেঁষা।
বর্তমানে আল জউফের নিয়ন্ত্রণ মূলত দুই পক্ষের মধ্যে বিভক্ত। হুথিরা আল হাজম ও আশপাশের এলাকা ধরে রেখেছে, অন্যদিকে সরকারি বাহিনীও প্রদেশের বাকি অংশগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কৌশলগত অবস্থানগুলো ধরে রাখতে দুপক্ষই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনপুষ্ট সরকারপন্থী বাহিনীগুলো তাইজসহ বিভিন্ন প্রদেশে হুথি অবস্থানগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
হুথি এবং সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া উত্তেজনার অংশ হিসেবেই এই সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ইয়েমেন ও বৃহত্তর অঞ্চলে দুই পক্ষই বিভিন্ন হামলা ও সামরিক কার্যক্রমের কথা জানিয়ে আসছে।
