সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সুদানে বিদ্যুৎ সংকট

পূর্ব সুদানের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা: কাসালা রাজ্যে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ২, ২০২৬, ০২:০০ পিএম

পূর্ব সুদানের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা: কাসালা রাজ্যে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট

সোমবার পূর্ব সুদানের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে কাসালা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনের শুরুতে মনুষ্যবিহীন বিমানগুলো নিউ হালফা এবং অরোমা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে আঘাত হানে।

এই ঘটনার ফলে গত এক সপ্তাহে সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলার শিকার হওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫টিতে।

এর আগের হামলাগুলো খার্তুম, জাজিরা, সেন্নার, লোহিত সাগর, গেদারেফ, কাসালা এবং নীল নদ রাজ্যের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে নিউ হালফা ও অরোমা উভয় কেন্দ্রে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

ফুটেজে দেখা গেছে, অরোমা কেন্দ্রের আগুন নেভাতে কাজ করছে সিভিল ডিফেন্সের দলগুলো।

এর আগে রোববার নীল নদ রাজ্যের আবু হামাদ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে এবং উত্তর রাজ্যের আল দাব্বা উপকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়।

জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চলমান এই হামলার ঘটনায় ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে সুদান সরকার।

সুদানের বিভিন্ন রাজ্যের বেসামরিক অবকাঠাম ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার সাথে আদ্দিস আবাবার জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছে খার্তুম।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের শান্তি ও নিরাপত্তা কাউন্সিলের কাছে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

সুদান কর্র্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বরাবরই আধা সামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের বিরুদ্ধে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ করে আসছে।

আধা সামরিক এই গোষ্ঠীটি সাধারণত এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করে না এবং দাবি করে যে তারা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় কাজ করছে।

জাতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাথে আধা সামরিক বাহিনীটির একত্রীকরণ নিয়ে মতবিরোধের জেরে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানি সেনাবাহিনী ও র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের মধ্যে এই সংঘাত শুরু হয়।

দীর্ঘস্থায়ী এই লড়াইয়ের ফলে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

পাশাপাশি এই সংঘাতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা দেশজুড়ে একটি গুরুতর মানবিক জরুরি অবস্থা এবং তীব্র খাদ্য সংকট তৈরি করেছে।

banner
Link copied!