শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

টাটা সন্সের বোর্ড দ্বন্দ্বে জটিলতা বাড়ল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

টাটা সন্সের বোর্ড দ্বন্দ্বে জটিলতা বাড়ল

ভারতের অন্যতম প্রাচীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদ তাদের প্রধান অংশীদার টাটা ট্রাস্টের আপত্তি উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান পদে এন চন্দ্রশেখরনকে দ্বিতীয় দফায় পুনর্নিয়োগ এবং প্রতিষ্ঠানটিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিবিসি ও রয়টার্স জানিয়েছে। টাটা সন্সের ৬৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক টাটা ট্রাস্ট এই পদক্ষেপকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিধিমালার পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। ফলে একশত আটান্ন বছরের পুরোনো এই করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মুম্বাই সদর দপ্তর বম্বে হাউসে এক নতুন অভ্যন্তরীণ জটিলতা শুরু হয়েছে।

মুম্বাইয়ের করপোরেট বিশ্লেষকদের মতে, চেয়ারম্যানের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর এই প্রস্তাব পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদন পেলেও আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভায় টাটা ট্রাস্ট এর বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। করপোরেট আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, পরিচালনা পর্ষদের মনোনয়ন কমিটি কেবল সুপারিশ করতে পারে, সরাসরি এই ধরনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আইনি এখতিয়ার তাদের নেই।

নেতৃত্বের বিরোধের পাশাপাশি টাটা সন্সকে উন্মুক্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার প্রশ্নটি আরও গভীর রূপ নিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ২০২২ সালে টাটা সন্সকে উচ্চ স্তরের নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করে তিন বছরের মধ্যে বাজারে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে এই তালিকাভুক্তির আওতা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলেও চলতি মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচ করে দেয়।

পুঁজিবাজারে প্রবেশের এই উদ্যোগ নিয়ে টাটা পরিবারের অভ্যন্তরীণ অংশীদারদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য রয়েছে। প্রয়াত রতন টাটাসহ ট্রাস্টের জ্যেষ্ঠ পরিচালকেরা প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, যাতে বাণিজ্যিক লভ্যাংশ থেকে পরিচালিত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনুদান বাইরের শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফামুখী চাপে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অন্যদিকে সমর্থকদের মত, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার, সেমিকন্ডাক্টর ও এয়ার ইন্ডিয়ার মতো বৃহৎ বৈশ্বিক বিনিয়োগ সামলাতে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছ পুঁজি কাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই। উম্মাহকণ্ঠ ডট কম অনুসন্ধান করে জেনেছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে যাতে তালিকাভুক্তি-সংক্রান্ত যেকোনো আপত্তির শুনানিতে তাদের বক্তব্য আগে গ্রহণ করা হয়।

উভয় পক্ষের এই মতানৈক্যের পর পরিস্থিতি এখন আদালতের দীর্ঘ আইনি লড়াই বা যৌথ সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে।

banner
Link copied!