সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধবিরতি ও কূটনীতি

জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের দাবির পরই ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের দাবির পরই ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত কথিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতির পরপরই ইউক্রেনের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে রাশিয়া যদি সত্যি আক্রমণ বন্ধ করে, তবে ইউক্রেনও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা স্থগিত করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।

যুদ্ধ বন্ধের কোনো সমঝোতায় না গিয়েও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এককভাবে সুবিধা আদায় করে নিচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেন অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। কিন্তু এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানে। জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া যদি তাদের তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ চায়, তবে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষকে হত্যা করা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানা সবার আগে মস্কোকে থামাতে হবে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ মেনে চললে এই জ্বালানি যুদ্ধবিরতি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হতে পারে।

এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জ্বালানি যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে কোনো স্পষ্ট সম্মতি দেননি। ক্রেমলিন জানিয়েছে, এ বিষয়ে বলার মতো কোনো তথ্য তৈরি হলে তা যথাসময়ে জানানো হবে। অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউক্রেনের প্রস্তাবিত ৬০ দিনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। মস্কোর দাবি, কিয়েভকে কোনো ধরনের বাড়তি সময় বা স্বস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।

ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্রদের উদ্বেগ উপেক্ষা করে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার একটি বিতর্কিত সমঝোতায় পৌঁছেছেন ট্রাম্প। এর বিপরীতে রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা না চালাতে চাপ দিয়ে আসছিলেন।

কিয়েভের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ছাড় না দিয়েই ওয়াশিংটনের কাছ থেকে একটি প্রতীকী ও কূটনৈতিক বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন পুতিন। ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পূর্ণ বাইরে রেখে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লেনদেন করতে সক্ষম হওয়ায় ক্রেমলিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই শীত মৌসুমে দেশটির বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে রুশ বাহিনী। চলমান সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষা করা এখন ইউক্রেনের জন্য অস্তিত্বের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

banner
Link copied!