ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের তিগ্রাই অঞ্চলের রামা শহরে গত শুক্রবার এক ড্রোন হামলায় ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় জোয়ার বা সোরঘাম সংগ্রহ করতে জড়ো হয়েছিলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য শস্য বহনকারী একটি বেসরকারি ট্রাকের ওপর গত বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালানো হয়েছিল, যার ফলে শস্যগুলো রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় সূত্রগুলো ইথিওপীয় সংবাদমাধ্যম আডিস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছে যে ঘটনাস্থলেই ১২ জন মারা যান। আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর।
আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা প্রজেক্ট এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। নজরদারি সংস্থাটি ১২ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি হতাহতের ঘটনা এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির কথা নথিভুক্ত করেছে।
এই সহিংসতার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন তিগ্রাইয়ে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। ড্রোন ব্যবহারের এই বৃদ্ধি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর আগে অক্টোবরের শুরুর দিকে মেদাবে তেরের এলাকায় পৃথক ড্রোন হামলায় আট বছর বয়সি এক শিশুসহ সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্য ছয়জন আহত হন। হিনতালো জেলায় চালানো হামলায় দুই বছরের এক শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকরা হতাহত হন।
ড্রোন হামলাসংক্রান্ত এই সহিংসতা তিগ্রাই ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী আমহারা অঞ্চল এবং পশ্চিমা ওরোমিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। আমহারার হাইয়িক জারি টু তুর্ক বাস্তুচ্যুত শিবিরে গত বৃহস্পতিবারের হামলায় অন্তত ১৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন।
উত্তরাঞ্চলের এই সংঘাত প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। আডিস আবাবা আসমারাকে তিগ্রাইয়ে সেনা মোতায়েন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের অভিযোগ করেছে।
ইরিত্রিয়া এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন যে চলমান এই বিরোধগুলো একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
