ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারপন্থী বাহিনী এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের জেরে দুই লাখ ৯০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। প্রধানত তাইজ প্রদেশ ও উপকূলীয় এলাকায় সংঘর্ষ কেন্দ্রীভূত থাকায় হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানানো হয়েছে যে ছয় হাজার পাঁচশ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। সংঘাতের কারণে মৌলিক সেবাগুলো ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য ও জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী সাম্প্রতিক এই বাস্তুচ্যুতির শিকার মানুষের মধ্যে ছয় হাজার একশ জন গর্ভবতী নারী রয়েছেন। এই সংখ্যার মধ্যে এমন ছয়শ নারীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন যাদের দুই সপ্তাহের মধ্যে সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় রয়েছে।
বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থা প্রায় দুই লাখ ৪৯ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে খাদ্যসামগ্রী, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী এবং জরুরি নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছে। জাতিসংঘ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন অস্থায়ী বসতিতে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা দল ও প্রসূতি সেবিকাদের পাঠিয়েছে।
ইয়েমেনের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের এই তীব্রতা এমন এক সময়ে দেখা গেল যখন তা সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবের দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। রিয়াদ অঞ্চলের আকাশে একটি শত্রু ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। এই ঘটনায় কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
গত দুই দিনের মধ্যে রিয়াদ অঞ্চলের আকাশে ড্রোন আটকের এটি দ্বিতীয় ঘটনা। মক্কা, মদিনা ও রিয়াদের কাছাকাছি এলাকাগুলো থেকে ড্রোন ভূপাতিত করার কথা সৌদি কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল এবং একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দিকে একটি হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
সৌদি ভূখণ্ডের দিকে ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এই দাবিগুলোকে ডাহা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ইসলামের পবিত্রতম দুটি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ হুথি গোষ্ঠী বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। তবে সৌদি রাজধানী, বিভিন্ন বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারের ওপর চালানো বেশ কয়েকটি হামলার দায় এই গোষ্ঠীটি স্বীকার করেছে।
লড়াইয়ের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি এবং সুপেয় পানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই অবরোধের ফলে আশেপাশের এলাকায় বসবাসরত ২০ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন আরব জোট সরকারের সমর্থনে সামরিক হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
