রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

ইসলামে ২য় বিয়ে: কখন তা নিষিদ্ধ এবং কখন জরুরি?

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১০, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

ইসলামে ২য় বিয়ে: কখন তা নিষিদ্ধ এবং কখন জরুরি?

ইসলামে একাধিক বিয়ের বিধানটি কেবল একটি সুযোগ নয় বরং এটি ইনসাফ এবং কঠোর দায়বদ্ধতার একটি পরীক্ষা। ২০২৬ সালের বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ২য় বিয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং এর ফিকহি সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে। শরীয়তের মূলনীতি অনুযায়ী কোনো পুরুষ যদি ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে না পারে তবে তার জন্য একাধিক বিয়ে করা গুরুতর গুনাহের কারণ হতে পারে। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না তবে একজন স্ত্রীই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। উম্মাহ কণ্ঠের এক বিশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে বর্তমান যুগে ২য় বিয়ের ক্ষেত্রে কেবল আবেগ নয় বরং আর্থিক ও মানসিক সক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ইসলামি ফিকহ ও মূলনীতির আলোকে ২য় বিয়ে করা কয়েকটি বিশেষ অবস্থায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা গুনাহের কাজ বলে গণ্য হয়। প্রথমত যদি কোনো ব্যক্তি নিশ্চিত জানেন যে তিনি উভয় স্ত্রীর মধ্যে সময় বন্টন এবং ভরণপোষণের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখতে পারবেন না তবে তার জন্য ২য় বিয়ে করা জায়েজ নয়। সুনান আবু দাউদের একটি হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে যে যার দুই স্ত্রী আছে এবং সে একজনের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে কেয়ামতের দিন সে এক পাশ অবশ অবস্থায় উপস্থিত হবে। এছাড়া আর্থিক সক্ষমতার অভাব থাকলেও ২য় বিয়ে করা মাকরুহে তাহরিমি। যখন একজন ব্যক্তি একটি পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খাচ্ছেন তখন নতুন বিয়ের মাধ্যমে অন্য একজনের হক নষ্ট করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জুলুম। বিশেষ করে যদি ২য় বিয়ের মূল উদ্দেশ্য হয় প্রথম স্ত্রীকে মানসিকভাবে কষ্ট দেওয়া বা তাকে তুচ্ছজ্ঞান করা তবে সেই বিয়ে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে বিশেষ কিছু ব্যক্তিগত ও মানবিক প্রেক্ষাপটে ২য় বিয়ে একটি শরীয়তসম্মত সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফুকাহায়ে কেরামের মতে যদি কোনো ব্যক্তির চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং তিনি হারামে লিপ্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা করেন তবে ইনসাফ করার পূর্ণ ক্ষমতা থাকা সাপেক্ষে ২য় বিয়ে করা তার জন্য জরুরি বা ওয়াজিব হয়ে দাঁড়ায়। এটি মূলত সতীত্ব রক্ষা ও তাকওয়া বজায় রাখার একটি বৈধ পথ। আবার যদি কোনো দম্পতি দীর্ঘ সময় ধরে সন্তানহীনতায় ভোগেন এবং উভয়ের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বংশধারা রক্ষার প্রয়োজন দেখা দেয় তবে ২য় বিয়ে একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। এর বাইরে বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারীদের সামাজিক সুরক্ষা এবং সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিয়ে করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। ইসলামের ইতিহাসে বহুবিবাহের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল নারীর মর্যাদা রক্ষা ও নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

আধুনিক যুগের আলেমদের পর্যবেক্ষণ হলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেবল আর্থিক সামর্থ্য থাকলেই ২য় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। এর জন্য মানসিক ও চারিত্রিক দৃঢ়তা থাকা অপরিহার্য। হুট করে নেওয়া আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত অনেক সময় বিদ্যমান পরিবারের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে দেয় যা কাম্য নয়। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী ২য় বিয়ে একটি আমানত এবং ইনসাফের দায়িত্ব। যেখানে প্রকৃত প্রয়োজন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা আছে সেখানে এটি বৈধ। আর যেখানে জুলুম ও প্রবৃত্তির অন্ধ অনুসরণ কাজ করে সেখানে এটি পরকালে কঠিন শাস্তির কারণ হবে। তাই একজন মুমিনের পরিচয় হলো আবেগ নয় বরং কোরআন সুন্নাহ এবং তাকওয়ার আলোকে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া।

banner
Link copied!