শহরের পিচঢালা পথে এক পশলা বৃষ্টির পর যখন মাটির সোঁদা গন্ধ ভেসে ওঠে, তখন বাঙালির মন স্বাভাবিকভাবেই এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা খোঁজে। চা কেবল একটি সাধারণ পানীয় নয়। এটি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং হাজারো হাসি-কান্নার নীরব সাক্ষী।
আজ আন্তর্জাতিক চা দিবস।
স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই রঙিন দিনগুলোর দিকে তাকালে রাস্তার মোড়ের ছোট্ট টং দোকানগুলোই ছিল পুরো দুনিয়ার কেন্দ্রবিন্দু। কাঠের নড়বড়ে বেঞ্চে বসে টিনের চালে বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ শুনতে শুনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা চলত। পকেটে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলেও এক কাপ চা অনায়াসেই ভাগাভাগি করে খেত তিন-চার বন্ধু। সেই কড়া লিকারের লাল চায়ের সাথে মিশে থাকত পরীক্ষার টেনশন, ক্রিকেটের উত্তেজনা আর বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে তুমুল তর্ক। পৃথিবীর যেকোনো দামি পানীয় যেন সেই অদ্ভুত স্বাদের কাছে হার মানতে বাধ্য ছিল।
বন্ধুত্বের গণ্ডি পেরিয়ে এই চা অসংখ্য প্রেমেরও নীরব এবং বিশ্বস্ত সাক্ষী হয়ে আছে। প্রথম দেখার সেই লাজুক মুহূর্তগুলোতে দুজনের মাঝখানে টেবিলে রাখা চায়ের কাপই ছিল একমাত্র ভরসা। চায়ে আলতো চুমুক দেওয়ার ফাঁকে আড়চোখে তাকানো আর হৃদয়ের দ্রুত ধুকপুকানি অদ্ভুত এক রোমান্টিক ছন্দ তৈরি করত। শীতের তীব্র কুয়াশা মোড়ানো পড়ন্ত বিকেলে প্রিয় মানুষের হাত ধরে হাঁটার পর এক কাপ গরম চা শরীর ও মনে অন্যরকম উষ্ণতা এনে দেয়।
সময়ের আবর্তনে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় এখন অনেক আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। চেনা টং দোকানের পাশাপাশি এখন শহরজুড়ে গড়ে উঠেছে নান্দনিক সব আধুনিক ক্যাফে বা কফিশপ। সেখানে হয়তো টিনের চালের শব্দ নেই, কিন্তু আছে হালকা মিউজিক আর দারুণ ডেকোরেশন। সবুজ মাচা, রিফ্রেশিং আইসড টি বা ক্যামোমাইল টি এখন তরুণদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। রূপ বদলালেও বাঙালির কাছে চায়ের সেই চিরায়ত আবেদন বিন্দুমাত্র কমেনি।
