দীর্ঘক্ষণ জুতা বা মোজা পরে থাকলে পা ঘামানো খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। তবে অনেকের ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত পা ঘামানোর সমস্যা দেখা যায়, যা গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে চরম আকার ধারণ করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অস্বস্তিকর শারীরিক অবস্থাকে ‘প্লান্টার হাইপারহাইড্রোসিস’ বলা হয়। পায়ে অতিরিক্ত ঘাম জমলে সেখানে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয় এবং তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।এই বিরক্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রাত্যহিক কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।
ঘাম নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সবসময় শতভাগ সুতি বা উলের তৈরি মোজা ব্যবহার করা উচিত। এই ধরনের প্রাকৃতিক তন্তু খুব সহজেই পায়ের ঘাম শুষে নিতে পারে এবং জুতার ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলে সাহায্য করে। এর বিপরীতে নাইলন বা সিন্থেটিক মোজা ঘাম দূর করতে পারে না বলে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ বেশি হয়। একই মোজা না ধুয়ে দুদিন পরা এবং ভালো করে না শুকিয়ে ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে জুতা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
গোসলের পর অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ভেজা পায়েই জুতা পরে নেন, যা ফাঙ্গাল ইনফেকশন তৈরির প্রধান কারণ। পায়ের আঙুলের ফাঁকে জমে থাকা পানি তোয়ালে দিয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়ার পরেই খাঁটি চামড়া বা ক্যানভাসের জুতা পরতে হবে। প্লাস্টিক বা কৃত্রিম চামড়ার জুতায় বাতাস চলাচল করতে পারে না বলে পায়ের তাপমাত্রা বেড়ে ঘাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন হালকা গরম পানিতে সামান্য এপসম সল্ট অথবা ফোটানো লিকার চায়ের পানি মিশিয়ে তাতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখলে চমৎকার ফলাফল পাওয়া যায়।
চায়ে থাকা ট্যানিক অ্যাসিড পায়ের গ্রন্থিগুলোকে সংকুচিত করে প্রাকৃতিকভাবে ঘাম উৎপাদন কমিয়ে দেয়। চা, কফি, অতিরিক্ত চকোলেট এবং ঝাল বা মসলাযুক্ত খাবার শরীরের নার্ভাস সিস্টেমকে উত্তেজিত করে ঘাম উৎপাদনকারী গ্রন্থিগুলোকে অতিমাত্রায় সক্রিয় করে তোলে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলার মাধ্যমে পায়ের অতিরিক্ত ঘাম সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
