শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সামরিক উত্তেজনার জেরে ইরানের আকাশসীমা ও ফ্লাইট চলাচল সীমিত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৩, ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

সামরিক উত্তেজনার জেরে ইরানের আকাশসীমা ও ফ্লাইট চলাচল সীমিত

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা। শনিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, তেহরানের ‘ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়নের’ পশ্চিমাংশে অবস্থিত বিমানবন্দরগুলোতে বেসামরিক বিমান চলাচলের অনুমতি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হলো।সামরিক সতর্কতার কারণে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচলের সময়সীমাও সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।

দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, তেহরানের মেহরাবাদ ও ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরসহ সারাদেশে আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর বর্তমানে চালু থাকলেও সেখানে ফ্লাইট চলাচলের সময় কেবল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলোকে এখন থেকে প্রতিটি ফ্লাইটের জন্য সিভিল এভিয়েশন থেকে নতুন করে বিশেষ অনুমোদন গ্রহণ করতে হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তেহরানসহ পশ্চিমাঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে যা সাধারণ আকাশপথের স্বাভাবিক চলাচলকে ব্যাহত করবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং সিবিএস নিউজ দাবি করেছে যে, বাইডেন প্রশাসনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাপ্তাহিক ছুটির দিনের ব্যক্তিগত কর্মসূচি বাতিল করে দ্রুত হোয়াইট হাউসে ফিরে এসেছেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের ডেকে জরুরি বৈঠক করেন, যার পরপরই মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সদস্যদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত আক্রমণের ঘোষণা এখনো আসেনি, তবুও এই দ্রুত সামরিক প্রস্তুতি নতুন যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সরাসরি যুদ্ধ স্থগিত হলেও স্থায়ী কোনো শান্তি চুক্তি এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি। গত বুধবার ট্রাম্প নিজেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চুক্তি অথবা নতুন করে সামরিক সংঘাতের মাঝামাঝি এক সন্ধিক্ষণে রয়েছে। আকাশসীমা বন্ধ এবং সামরিক ছুটি বাতিলের এই ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্টত নির্দেশ করছে যে, কূটনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে দুই দেশই এখন সরাসরি সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

banner
Link copied!