দিনের আলোয় কাজের ব্যস্ততায় যে অস্থিরতা খুব একটা অনুভূত হয় না, রাত বাড়লেই তা যেন দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসে। ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন—সব যেন গভীর রাতে মাথার ভেতর ভিড় করে। অনেকেই খেয়াল করেছেন, সারাদিন মানসিকভাবে শান্ত থাকলেও বিছানায় যাওয়ার পরই যেন মনের ওপর জমা হওয়া আবেগ ও দুশ্চিন্তার পাহাড়টি চোখের সামনে ভেসে ওঠে।মস্তিষ্ক ও শরীরের ক্লান্তি সব সময় একই ছন্দে চলে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্থিরতার পেছনে কেবল একটি কারণ কাজ করে না। আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি এবং মস্তিষ্কের কার্যপদ্ধতির মধ্যে এক ধরনের অমিল তৈরি হয়। সারাদিন শরীর প্রচুর পরিশ্রম করলেও মস্তিষ্ক অনেক সময় সেই অনুপাতে শান্ত হয় না। দিনের ডিজিটাল তথ্য, অফিসের চাপ আর অবিরাম মানসিক সক্রিয়তা মস্তিষ্ককে একটি `হাই অ্যালার্ট` বা সতর্ক অবস্থায় রাখে। ফলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়লেও মন বিশ্রাম নিতে পারে না।
আধুনিক জীবনধারা মস্তিষ্কের জন্য এই বিরতিটুকু খুব কমই অবশিষ্ট রাখে। মানুষ এক কাজ শেষ করে অন্য কাজে যোগ দেয়, আর দিনের শেষে বিশ্রাম নেওয়ার পরিবর্তে ফোন স্ক্রল করে সময় কাটায়। এই দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত হতে দেয় না। ফলস্বরূপ, মস্তিষ্ক সাধারণ কোনো বিষয়কেও অনেক সময় বিপদের সঙ্কেত হিসেবে ভুল করে। তখন ছোট ছোট চিন্তাগুলোকেও মনে হয় পাহাড়প্রমাণ সমস্যা, যা ঘুমকে দূরে ঠেলে দেয়।
সমস্যাটি থেকে মুক্তি পেতে কেবল ঘুমের রুটিন ঠিক করা যথেষ্ট নয়। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সারাদিনের মাঝে ছোট ছোট মানসিক বিরতি নেওয়া খুব জরুরি। যারা দিনভর নিজেকে কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত রাখেন, তারা রাতের শান্ত সময়ে হঠাৎ করেই নিজেদের অনুভূতির মুখোমুখি হন। তখন সেই দমিয়ে রাখা চিন্তাগুলো প্রবল হয়ে ওঠে। তাই দিনেই সচেতনভাবে বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে।
স্ক্রিন টাইম কমানো বা ঘুমানোর আগে কিছুটা সময় নিস্তব্ধতায় কাটালে এই অস্থিরতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তবে মনে রাখা জরুরি, যদি এই দুশ্চিন্তা প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করে, তবে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
