বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

বিয়ন্সের অপ্রকাশিত গান চুরির দায়ে জেল হলো এক ব্যক্তির

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

বিয়ন্সের অপ্রকাশিত গান চুরির দায়ে জেল হলো এক ব্যক্তির

বিশ্বখ্যাত পপ তারকা বিয়ন্সের অপ্রকাশিত সংগীত এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরির দায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার এক ব্যক্তিকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী কেলভিন ইভান্স গত বছর বিয়ন্সের ট্যুর টিমের ব্যবহৃত একটি গাড়ি ভেঙে বেশ কিছু হার্ড ড্রাইভ এবং মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি করেছিলেন। আটলান্টার একটি আদালত মঙ্গলবার তাকে এই সাজা প্রদান করে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাকে আরও তিন বছরের প্রবেশন বা নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ৮ জুলাই। সে সময় বিয়ন্সে তার ‘কাউবয় কার্টার’ ট্যুরের অংশ হিসেবে আটলান্টায় অবস্থান করছিলেন। বিয়ন্সের কোরিওগ্রাফার ক্রিস্টোফার গ্রান্ট এবং নৃত্যশিল্পী ডিয়ানড্রে ব্লু একটি জিপ ওয়াগনিয়ার গাড়ি ভাড়া করেছিলেন। তারা যখন ফিরে আসেন, তখন দেখতে পান গাড়ির পেছনের জানালার কাঁচ ভাঙা এবং ভেতরে থাকা তাদের সব মালামাল গায়েব। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চুরি হওয়া ওই সব মালামালের মধ্যে দুটি ম্যাকবুক ল্যাপটপ, অ্যাপল হেডফোন, দামি পোশাক এবং বেশ কয়েকটি হার্ড ড্রাইভ ছিল। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল, ওই হার্ড ড্রাইভগুলোতে বিয়ন্সের কিছু অপ্রকাশিত গান এবং অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য ছিল।

আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রসিকিউটররা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কেলভিন ইভান্সের সম্পৃক্ততা খুঁজে পান। ফুটেজে দেখা যায়, একটি লাল রঙের হুন্দাই গাড়ি ওই পার্কিং গ্যারেজে ভাড়ার গাড়িটির পাশে এসে থামে। এরপর অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায় ইভান্স কিছু সুটকেস নিয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে প্রবেশ করছেন। তদন্তকারীরা প্রযুক্তির সহায়তায় চুরি যাওয়া ল্যাপটপগুলোর অবস্থান শনাক্ত করে ইভান্সের সন্ধান পান। যদিও ইভান্স আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন, তবে পুলিশ এখনো চুরি হওয়া সেই হার্ড ড্রাইভ বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করতে পারেনি।

মঙ্গলবার আদালতে ইভান্সের আইনজীবী জানান যে, তার মক্কেল এখন সুস্থ জীবনে ফিরতে চান এবং সৎ উপায়ে আয় করে সমাজের মূল ধারায় যুক্ত হতে আগ্রহী। তবে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারক তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ইভান্স গত বছরের আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই কারাগারে বন্দি ছিলেন। আদালতের রায়ে তাকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে দূরে থাকার এবং যে এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছে সেখানে প্রবেশ না করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিয়ন্সের মতো বিশ্বখ্যাত তারকার অপ্রকাশিত গান চুরি হওয়া সংগীত ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়। এর আগেও অনেক শিল্পীর অপ্রকাশিত কাজ ইন্টারনেটে ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ক্ষেত্রে হার্ড ড্রাইভগুলো এখনো উদ্ধার না হওয়ায় উদ্বেগ রয়েই গেছে। বিয়ন্সের আটলান্টা কনসার্টের ঠিক আগমুহূর্তে এই চুরির ঘটনাটি পুরো টিমের জন্য বড় ধরনের মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আপাতত কেলভিন ইভান্সকে কারাগারে যেতে হলেও হার্ড ড্রাইভে থাকা সেই অপ্রকাশিত সুরগুলো কোথায় গেল, সেই রহস্য এখনো অজানাই রয়ে গেছে।

banner
Link copied!