পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের রাজধানী মুজাফফরাবাদের কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার সকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দেশটির সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, হেলিকপ্টারে থাকা সকল আরোহী শাহাদাত বরণ করেছেন এবং এই ঘটনায় কেউ বেঁচে নেই। উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারকারী দলগুলোকে অবিলম্বে দুর্ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।
আইএসপিআর বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী উড্ডয়নের সময় হেলিকপ্টারটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। এই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই সম্ভবত দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে নিহতদের সঠিক সংখ্যা বা তাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
দেশের এই শোকাবহ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসীম মুনির এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফও এই ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এপিপি জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী নব্বইয়ের দশকের শেষের দিক থেকে রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার পরিচালনা করে আসছে। এই হেলিকপ্টারগুলো মূলত পরিবহন, ব্যবহারিক এবং যুদ্ধকালীন বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে সাধারণত তিনজন ক্রু সদস্য থাকেন এবং এটি ২৪ জন সৈন্য অথবা চার টন পর্যন্ত ভারবহনের সক্ষমতা রাখে। বিগত বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে এই হেলিকপ্টারগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়নে সহায়তা করেছিল।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে গিলগিট-বালতিস্তানের দিয়াম জেলায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি সেনা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল, যেখানে পাঁচজন সৈন্য নিহত হন। একই বছরের আগস্ট মাসে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার মোহমান্দ জেলায় বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। সেই ঘটনায় দুই পাইলট এবং তিন ক্রু সদস্য প্রাণ হারিয়েছিলেন। বুধবারের এই দুর্ঘটনাটি দেশটির সামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলেছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
