বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলা, ২৬ জঙ্গি নিহতের দাবি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১০, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলা, ২৬ জঙ্গি নিহতের দাবি

আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা পরিচালনার পর দুই দেশের মধ্যকার উত্তজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুধবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে ছাব্বিশজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। পাকিস্তান সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার জন্য ভারতের মদদপুষ্ট তেহরিক-ই-তালেবান বা টিটিপিকে দায়ী করে আসছে এবং তাদের দমনে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সম্প্রতি পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলাগুলোর প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার উল্লেখ করেছেন যে, অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। হামলায় জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, গোপন আস্তানা এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদের ভাণ্ডার ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এই অভিযানকে তাদের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কর্মপরিকল্পনা আজম-ই-ইস্তেহকামের অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার পেশোয়ারের মুসা দারায় নিরাপত্তা বাহিনীর পোস্টে হামলার ঘটনার পরই এই বিমান হামলাগুলো পরিচালিত হয়।

অন্যদিকে, এই বিমান হামলার বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তালেবানের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিনটি প্রদেশে অন্তত তেরোজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এগারোজন শিশু, একজন নারী এবং একজন বয়স্ক ব্যক্তি রয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও আরও চৌদ্দজন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন। তালেবান সরকার এই ঘটনাকে মানবিক অপরাধ এবং আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার টিটিপি নামক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনকে আশ্রয় ও সহায়তা প্রদান করছে। পাকিস্তানের দাবি, এসব জঙ্গি সংগঠন আফগানিস্তানের মাটিতে থেকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। তবে তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের তিক্ততা রয়েছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসেও পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে আশি জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও, সীমান্তে সামরিক তৎপরতা এবং পারস্পরিক অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের কারণে শান্তি স্থাপনের পথ অনেকটা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তা আজকের এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

banner
Link copied!