বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়ায় বড় সংস্কার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১১, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়ায় বড় সংস্কার

ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমবাজারকে আরও আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করে তুলতে দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতীকরণ মন্ত্রণালয় ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে। জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূরীকরণ কর্মসূচির আওতায় মন্ত্রণালয়টি এই নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আবেদন প্রক্রিয়ার গতি বাড়ানো, যাতে নিয়োগকর্তা এবং বিদেশি কর্মী উভয়ই দ্রুত সেবা পেতে পারেন।

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে সহায়তাকারী নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু বিশেষ ধরনের ওয়ার্ক পারমিটের ক্ষেত্রে তথ্যের প্রয়োজন ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে আবেদনের নথি তৈরি ও জমা দেওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তর করার ফলে এখন আর ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হবে না। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এখন অনুমোদনের বিষয়টি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

বর্তমান আমিরাতের শ্রম আইনের অধীনে ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের অনুমতি, ট্রান্সফার পারমিট, গোল্ডেন ভিসাধারীদের ওয়ার্ক পারমিট, ফ্রিল্যান্স পারমিট এবং গৃহকর্মীদের জন্য পৃথক অনুমতিপত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন সংস্কারের ফলে এই সকল ধরনের আবেদন প্রক্রিয়া এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ ও দ্রুততর হবে। মন্ত্রণালয়ের মতে, প্রশাসনিক সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি শ্রম আইনের বিধিমালা মেনে চলা এখন নিয়োগকর্তাদের জন্য অনেক সহজ হবে।

সাধারণ জনগণ ও গ্রাহকদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় ৩০শে জুলাই পর্যন্ত একটি ইলেকট্রনিক গণশুনানি পর্ব চালু করেছে। ওয়ার্ক পারমিট পরিষেবার আরও উন্নয়ন এবং প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির সহজীকরণ নিয়ে সেখানে জনগণ তাদের পরামর্শ দিতে পারবেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আধুনিকায়ন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যাওয়া প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। জটিল প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটায় তারা এখন আরও সহজে এবং বৈধ আইনি সুরক্ষার মধ্য দিয়ে আমিরাতে কাজের সুযোগ পাবেন।

এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে একদিকে যেমন সময়ের সাশ্রয় হবে, তেমনি নিয়োগকর্তার জন্য কর্মীদের নিয়োগ করা হবে খরচ সাশ্রয়ী। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের এই উদ্যোগ দেশটির শ্রমবাজারকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন পুরো আমিরাতের শ্রমখাতে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে।

banner
Link copied!