ওমান উপকূলের অদূরে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে, সেত্তেবেলো নামের জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আঘাত হানা হয়, যার ফলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। জাহাজটিতে ২৮ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে ২৪ জন ভারতীয় নাগরিক। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ২১ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে তিনজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ওমান কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে যৌথ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অ্যামব্রের তথ্যমতে, জাহাজটি পালাউ-পতাকাবাহী। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সংস্থাটির মতে, এটি সম্ভবত মার্কিন নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে পরিচালিত কোনো অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
এই ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে ৮ জুন এমটি মারিভেক্স নামের আরেকটি তেলবাহী জাহাজে একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক দিনে বেশ কিছু জাহাজকে লক্ষ্য করে এই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। চলমান মার্কিন-ইরান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি ও ওমান সাগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। আট এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের উপকূলেও একাধিক জাহাজে হামলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধার এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
