দোহায় গত মার্চ মাসে বিধ্বস্ত হওয়া যুদ্ধবিমানের ইরানি পাইলটদের দীর্ঘ ছয় মাস ধরে গোপন বন্দিশাখায় আটকে রাখার যে দাবি তেহরান করেছে, তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নাকচ করে দিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে ইরানি কর্তৃপক্ষের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং অযৌক্তিক। আল জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সির প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি দোহায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করার পরই সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিমানগুলোর গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক আইন ও নির্দিষ্ট সামরিক প্রটোকল অনুসরণ করে বিমানগুলোর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কাতারের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল।
ইরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দাবি করা হয়েছিল যে গত মার্চের শুরুর দিকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর জাভেদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান এবং ইমরান বেহরাবেশিয়ান নামের তিন পাইলট জীবিত অবস্থায় কাতারের নিয়ন্ত্রণে বন্দি রয়েছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। তবে কাতার সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলো দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে একটি যুদ্ধবিমানের পাইলটের মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে তা তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া গত এপ্রিল মাসে কাতার সরকারের পক্ষ থেকে একটি ইরানি প্রযুক্তিগত প্রতিনিধিদলকে দোহা সফর করার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল যাতে তারা অনুসন্ধান অভিযানের সমস্ত নথিপত্র ও বিবরণ সরেজমিনে পর্যালোচনা করতে পারে। তবে ইরান সেই আমন্ত্রণে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে তেহরানের এই ধরনের দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মিডিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরির একটি মাধ্যম মাত্র। কাতার তার দেশের নিরাপত্তা, জনগণ এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। একই সাথে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
