শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ফিলিস্তিন নির্বাচন প্রত্যাশা

ফিলিস্তিন নির্বাচনের আগে গাজায় কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার দাবি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

ফিলিস্তিন নির্বাচনের আগে গাজায় কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার দাবি

দীর্ঘ বিশ বছর পর ফিলিস্তিনের জাতীয় আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন আগামী ২৮ নভেম্বরের নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী হামলায় বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার সাধারণ মানুষের কাছে এই নির্বাচনের প্রধান দাবি হয়ে উঠেছে নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।

বেকারত্বের হার বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ।

উপত্যকার দের আল-বালাহ শহরের ২৪ বছর বয়সী নার্সিং স্নাতক আহমদ মহসেন জানান, যুদ্ধের কারণে তার স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন থমকে গেছে। আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে বেতনহীন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার পর এখন তিনি প্রিপেইড ইন্টারনেট কার্ডের দোকানে জীবিকা খুঁজছেন। তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনে তরুণদের প্রধান চাওয়া একটি স্থিতিশীল কাজ এবং নিরাপদ পরিবেশ। সালাহ আল-দিন সড়কের পূর্বাঞ্চলে তাদের পারিবারিক জমিতে যেন স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসে এবং অক্টোবর মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত পুনর্গঠন কাজ শুরু হয়, সেই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

রাজনীতি এখন কেবল দৈনন্দিন টিকে থাকার লড়াই।

উপত্যকার ৫৩ বছর বয়সী সাবেক স্বর্ণকার ঘাসান মারওয়ান জানান, ২০০৬ সালের নির্বাচনে তিনি নুসেইরাতের একটি বিদ্যালয়ে স্বচ্ছ পরিবেশে ভোট দিয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নিজের বাড়ি ও কারখানা হারানোর পর আজ তিনি সন্তানদের নিয়ে তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছেন। প্রবীণ এই নাগরিকের মতে, বছরের পর বছর জমা হওয়া হতাশা ও ক্লান্তির কারণে রাজনীতি নিয়ে মানুষের আগ্রহ কমে গেছে, কারণ সবাই এখন খাবার ও পানির মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত।

ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। চরম মানবিক বিপর্যয় ও বাস্তুচ্যুতির মাঝে এই নির্বাচন মানুষের জীবনে বাস্তব কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আশা ও সংশয় দুটোই রয়েছে।

banner
Link copied!