রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

ইয়েমেনে কর্মী মৃত্যু

হুথি হেফাজতে জাতিসংঘের কর্মীর মৃত্যু: নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি ভলকার তুর্কের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম

হুথি হেফাজতে জাতিসংঘের কর্মীর মৃত্যু: নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি ভলকার তুর্কের

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের হেফাজতে জাতিসংঘের এক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় জরুরি ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান। ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, নিহত মোহাম্মদ আল-শামির পরিবারকে মৃত্যুর এক মাসেরও বেশি সময় পর সম্প্রতি ঘটনাটি সম্পর্কে জানানো হয়েছে।

ইরান সমর্থিত হুথি মিলিশিয়া বাহিনী ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে আল-শামিকে আটকে রেখেছিল। ভলকার তুর্ক এই মৃত্যুকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করে জানান যে, কীভাবে বা কেন তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ইয়েমেনে হুথিদের হেফাজতে আমাদের সহকর্মী মোহাম্মদ আল-শামির মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত, এক বিবৃতিতে বলেন ভলকার তুর্ক। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে খেয়ালখুশিমতো আটকে রাখা হয়েছিল। এটি একটি মর্মান্তিক ক্ষতি। মোহাম্মদের মৃত্যুর কারণ বা পরিস্থিতি সম্পর্কে তার পরিবার কোনো ব্যাখ্যা পায়নি। তারা সত্য জানার অধিকার রাখে। আমি একটি জরুরি, পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত দাবি করছি। এর সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

ভলকার তুর্ক হুথিদের কাছে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা দাবি করেছেন। তিনি সব চিকিৎসা ও আটকের নথিপত্র প্রকাশ, আলামত সংরক্ষণ এবং গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে মৃত্যুর যে কারণ জানানো হবে তা স্বাধীনভাবে যাচাই করার দাবি জানান।

তিনি বর্তমানে আটক থাকা জাতিসংঘের অন্য কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই দলে তার নিজস্ব কার্যালয়ের সাতজন কর্মীসহ অনেক মানবাধিকার ও সুশীল সমাজের আটক কর্মীরাও রয়েছেন। তিনি তাদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তাদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত হুথিদের অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা, মানবিক আচরণ, চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জাতিসংঘের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে, বলেন ভলকার তুর্ক। তিনি যোগ করেন যে, তাদের সহকর্মীদের প্রিয়জনদের বর্তমানে যা সহ্য করতে হচ্ছে, তা যেন কোনো পরিবারকে আর পোহাতে না হয়।

হাই কমিশনার সতর্ক করে বলেন যে, এই ঘটনা জাতিসংঘের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বিশ্ব সংস্থাটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তিনি তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

আমাদের সহকর্মীদের আটকে রাখার মাধ্যমে কার্যত কতৃপক্ষ ইয়েমেনের সবচেয়ে গুরুতর মানবিক ও মানবাধিকার সংকটের সময়ে জনগণকে সহায়তা করার আমাদের ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, বলেন ভলকার তুর্ক। আমি তাদের পথ পরিবর্তনের আহ্বান জানাই।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মানবাধিকারমন্ত্রী মাশদাল ওমর বলেছেন, আল-শামির অপহরণ, গুম এবং হেফাজতে মৃত্যুর জন্য তিনি সম্পূর্ণভাবে হুথিদের দায়ী করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওমর আটক অন্যান্য কর্মচারীদের মুক্তি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

হুথি হেফাজতে মারা যাওয়া জাতিসংঘের দ্বিতীয় কর্মী হলেন আল-শামির। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে আটক বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির এক ইয়েমেনী কর্মী উত্তর ইয়েমেনের একটি কারাগারে পরের মাসে মারা যান। এর আগের মৃত্যুর ঘটনাটির পর জাতিসংঘ হুথিদের শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাদায় তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছিল।

হুথিরা আটক জাতিসংঘের কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনেছে। ইয়েমেনে এই অভিযোগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, তবে জাতিসংঘ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। মিলিশিয়া বাহিনী বর্তমানে একাত্তরজন জাতিসংঘ কর্মীকে আটকে রেখেছে এবং গত জুন মাসে নিরাপত্তা পরিষদ বহু মানবিককর্মী, জাতিসংঘ কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের একটানা আটকে রাখার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

banner
Link copied!