রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জব্দ করা ইরানি সম্পদ মিত্রদের মধ্যে বণ্টনের পথে যুক্তরাষ্ট্র

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৭, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

জব্দ করা ইরানি সম্পদ মিত্রদের মধ্যে বণ্টনের পথে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ হয়ে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ সম্পদ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন মিত্র দেশের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বণ্টনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর অঞ্চলটিতে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাব চেয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ মূলত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একটি নতুন পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানি সম্পদ আটকে রেখেছে। তার মতে, এই অর্থ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা চুক্তি হওয়া অসম্ভব। যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেনি, তবে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন প্রশাসনের একটি বিশেষ মূল্যায়নকারী দল পাঠানো হয়েছে। এই দলটি বিভিন্ন দেশে ইরানি হামলার ফলে সৃষ্ট অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করছে এবং কাদের কতটুকু ক্ষতিপূরণ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করবে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, শুধু জব্দ সম্পদ নয়, প্রয়োজনে অন্য উৎস থেকেও অর্থ ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনায় থাকতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্বার্থ ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। কুয়েত, বাহরিন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে বিভিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই ইরানের জব্দ সম্পদ অন্য দেশগুলোর মধ্যে বণ্টনের পথে এগোয়, তাহলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

তেহরান কোনোভাবেই এই ধরনের পদক্ষেপ সহজভাবে মেনে নেবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তাপ বেড়েছে। ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলার খবর এবং ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। এদিকে সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তেহরান সফর করেছেন। চলমান এই সংকটে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই নতুন বিরোধ আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

banner
Link copied!