বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভারতের শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনে চাপে মোদী সরকার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২২, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

ভারতের শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনে চাপে মোদী সরকার

ছবি : সংগৃহীত

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে বুধবার রয়টার্স ও বিবিসি জানিয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে ভারী বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ককারোচ জনতা পার্টি নামের একটি তরুণ নেতৃত্বাধীন আন্দোলন। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেণ্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পুরো ভারতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই বিক্ষোভের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে রাজপথে নেমে আসায় মোদী সরকারের অস্বস্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

নয়াদিল্লির জন্তর মন্তর থেকে ভারতীয় পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করা হলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর তীব্র লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বলে বিবিসি নিশ্চিত করেছে। পুলিশের সাথে সংঘাতের ঘটনায় অন্তত ৬০ জন সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর পুলিশ জন্তর মন্তরের মঞ্চ ও অস্থায়ী তাবুগুলো ভেঙে ফেলে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা স্থান ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দিনরাত অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে হঠাৎ প্রতিবাদ সমাবেশ পরিচালনা করেন। পুলিশ সেখানে হস্তক্ষেপ করে রাহুল গান্ধীকে আটক করে নিয়ে যায় এবং পরে তাকে মুক্তি দেয়।

এই আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয়েছিল দেশের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, যা অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের কারণে কর্তৃপক্ষ বাতিল করতে বাধ্য হয়। এই অনিয়মের ফলে সৃষ্ট মানসিক চাপে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা গেছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ও শিক্ষা আন্দোলনকারী সোনাম ওয়াংচুক টানা ২১ দিন অনশন পালন করেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে, যা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন আরও বাড়িয়ে দেয়।

সংকট মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেণ্দ্র প্রধান আন্দোলনকারীদের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন। শিক্ষা মন্ত্রী জানান, সরকার শিক্ষার্থীদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে আন্দোলনকারীদের অন্যতম মূল দাবি ধর্মেণ্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সম্পর্কিত বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী জেপি নাড্ডা আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক করে তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন।

যা কম স্পষ্ট তা হলো মোদী সরকার কীভাবে দেশের তরুণ সমাজের এই অভূতপূর্ব ক্ষোভ প্রশমিত করবে, কারণ আন্দোলনের ব্যাপ্তি এখন নয়াদিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে মুম্বাই, হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং আহমেদাবাদেও ছড়িয়ে পড়েছে। ককারোচ জনতা পার্টির সমন্বয়ক অভিজিৎ দিপকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের মূল দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না। পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের সূচনাতেই তৈরি হওয়া এই উত্তাল পরিস্থিতি নরেন্দ্র মোদী সরকারের তৃতীয় মেয়াদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

banner
Link copied!