ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে তেহরান সফরে গিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। শনিবার তেহরানে পৌঁছানোর পর তিনি ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তুর্কি গণমাধ্যম আনাদোলু এবং ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা কূটনৈতিক অচলাবস্থা দূর করা এবং একটি সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছানো।
সফরকালে মোহসিন নাকভি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্যমতে, পাকিস্তান এই সফরে এমন কিছু নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করতে যাচ্ছে, যা উভয় পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপনে সহায়তা করবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর পাকিস্তান নিয়মিতভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এই আলোচনার মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানকে আরও সংবরণ করার এবং সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির পরিবর্তন এবং দুই দেশের পক্ষ থেকে শর্ত পালনের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ার ফলে আলোচনার গতি থমকে যায়। বর্তমান সফরে সেই পুরনো বাধাগুলো চিহ্নিত করে একটি নতুন রূপরেখা তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাকিস্তান মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা কমাতে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বা তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে সমঝোতা অত্যন্ত জরুরি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাত কেবল দুই দেশের সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে পড়ছে। ইরান সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘাঁটির ওপর হামলার ঘটনা এই উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করেছে। পাকিস্তান চায় না এই সংঘাত কোনো বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিক। তাই মোহসিন নাকভির এই সফরকে কূটনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তীতে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে যে জটিলতায় ফেলেছিল, তা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজছে উভয় পক্ষ।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সফর পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি পদক্ষেপ। একদিকে ওয়াশিংটনের সাথে পাকিস্তানের কৌশলগত সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা, অন্যদিকে তেহরানের সাথে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের মর্যাদা রক্ষা করা—সব মিলিয়ে ইসলামাবাদ এখন এক কঠিন ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। মোহসিন নাকভির এই বিশেষ প্রস্তাবগুলো কতটা কার্যকর হয়, কিংবা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাতে সাড়া দেয় কি না, তা সময়ই বলে দেবে। পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়, এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর সেদিকেই।
