রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ওড়িশায় ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে ভিজিল্যান্সের হানা: উদ্ধার ২ কোটি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৭, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

ওড়িশায় ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে ভিজিল্যান্সের হানা: উদ্ধার ২ কোটি

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের ওড়িশা রাজ্যে এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সম্পত্তির হদিস মিলেছে। রাজ্যের ভিজিল্যান্স দপ্তরের কর্মকর্তারা বৈকুণ্ঠনাথ বেহরা নামে ওই কর্মকর্তার বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে নগদ ২ কোটি টাকা উদ্ধার করেছেন। ১৯৯৯ সালে মাত্র ৬ হাজার টাকা মাসিক বেতনে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ দেখে তদন্তকারী কর্মকর্তারাও বিস্মিত হয়ে পড়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের চাকরি জীবনে তিনি পদের অপব্যবহার করে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়েছেন। সম্প্রতি তাকে অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পদে উন্নীত করা হয়। তবে তার জীবনযাপন ও সম্পদের অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসাব দেখে রাজ্য ভিজিল্যান্স বিভাগ দুর্নীতির মামলা দায়ের করে এবং তদন্ত শুরু করে। এরপরই ভুবনেশ্বর, বালেশ্বর, জাজপুর, বারিপদা ও কন্ধমলের বালিগুড়ায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় দপ্তরটি।

তদন্তকারীদের ভাষ্যমতে, ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি এবং একাধিক বিলাসবহুল গাড়িসহ আরও বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিস পাওয়া গেছে। তল্লাশিতে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তার নামে বা বেনামে মোট ১৩টি জমির দলিল রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি জমিই রয়েছে ভুবনেশ্বরে। এছাড়া তার সম্পদের তালিকায় পাঁচটি বহুতল ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ভুবনেশ্বরের নীলাদ্রি বিহারে ১০ হাজার ৫০০ বর্গফুটের একটি চারতলা বিলাসবহুল বাড়িও রয়েছে তার নামে।

ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে ব্যাংকের লকার থেকে ২ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ঠিকানা থেকে আরও তিন লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কেবল নগদ টাকাই নয়, সোনার গয়না এবং বিলাসবহুল গাড়ির উপস্থিতিও তদন্তকারীদের নজর কেড়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ কি করে একজন সরকারি কর্মকর্তার উপার্জিত বেতনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা বর্তমানে এই কর্মকর্তার আরও কোনো গোপন সম্পত্তি বা ব্যাংকিং হিসাব রয়েছে কি না, তা যাচাই করছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যাতে তার আয়ের সঠিক উৎস এবং দুর্নীতির নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। ওড়িশার দুর্নীতি দমন শাখা জানিয়েছে, তদন্ত শেষে আদালতে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজ্ঞরা।

banner
Link copied!