২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ইরান জাতীয় ফুটবল দল এক নজিরবিহীন ও চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বৈরিতা এবং কঠোর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে ফুটবলারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদাহ সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ফুটবল বিশ্বকাপ খেলতে টেক্সাস বা লস অ্যাঞ্জেলেসের মাটিতে পা রাখলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেবল ম্যাচের দিন সকালেই প্রবেশের অনুমতি পাবেন ফুটবলাররা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই ওই দিন রাতের মধ্যে তাদের যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে।
রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদাহ মার্কিন সরকারের এই কঠোর ইমিগ্রেশন আইনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ইরানি নাগরিকদের ওপর আমেরিকার দীর্ঘদিনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার জের ধরেই এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, ভিসা বিধিনিষেধের কারণে তারা কেবল ম্যাচের দিন সকালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন এবং ম্যাচ শেষ করে একই দিন রাতের মধ্যে দেশ ত্যাগ করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফুটবলারদের জন্য এই ইন-অ্যান্ড-আউট নীতি শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপের সৃষ্টি করবে। বড় কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের যে ধরণের বিশ্রাম ও প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা এই পরিস্থিতির কারণে কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র সংঘাতের কারণে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বের পরিকল্পনাও পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসনে ক্যাম্প করার কথা থাকলেও নিরাপত্তার খাতিরে সেই পরিকল্পনা বাতিল করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। আমেরিকার মাটি ছেড়ে তারা এখন তাদের বিশ্বকাপের মূল প্রস্তুতি ক্যাম্প বা বেস স্থাপন করেছে প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোতে। আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। এর মধ্যে দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং বাকি একটি ম্যাচ ওয়াশিংটনের সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে প্রতিটি ম্যাচের দিন মেক্সিকো থেকে ফ্লাইটে এসে আমেরিকায় খেলে রাতেই আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হবে ইরানি টিমকে।
দুই দেশের মধ্যে এই কূটনৈতিক লড়াই মূলত গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে শুরু হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এই ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক অস্থির যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর জবাবে ইরানও দমে না গিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এমনকি বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে আমেরিকার ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নেয় ইরান। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইরান ফুটবল দলের এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ফুটবল বিশ্বের স্বাভাবিক ছন্দকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
