পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বেশ কয়েকটি বিতর্কিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া এই নেত্রীর বাসভবনে মঙ্গলবার সিআইডি বা অপরাধ তদন্ত বিভাগ অভিযান পরিচালনা করেছে। একটি স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি এই তল্লাশি চালিয়েছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। ৭১ বছর বয়সী এই নেত্রী বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করলেও তার অনুপস্থিতিতেই এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা মনোনয়ন সংক্রান্ত একটি চিঠি। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দাবিমতে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করতে দলের পক্ষ থেকে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, তাতে স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে। দলটির দুই সংসদ সদস্য ঋতাব্রত ব্যানার্জী এবং সন্দীপন সাহা গত ২৭ মে স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেন যে, ৬ মে অনুষ্ঠিত দলের কোনো বৈঠকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। তারা আরও দাবি করেন, দলের কার্যবিবরণী বইয়ে তারা ১৯ মে স্বাক্ষর করেছিলেন, কিন্তু ৬ মে সেখানে তাদের কোনো স্বাক্ষর ছিল না।
এই দুই সংসদ সদস্যের অভিযোগ অনুযায়ী, ৬ মে তারিখের প্রস্তাবটি পরবর্তীতে তৈরি করা হয়েছে এবং তাতে জালিয়াতি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, মোট ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে ১৪টি স্বাক্ষর বড় হাতের অক্ষরে লেখা ছিল, যা তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে দুই সংসদ সদস্যের নাম ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদের দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।
সিআইডির তিনটি পৃথক দল বর্তমানে এই অভিযোগের তদন্তে মাঠে নেমেছে। একটি দল সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি, অপর একটি দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো এবং সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করছে। তৃতীয় দলটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে থাকায় তদন্তকারীদের অভিযানের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
राजनीতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরে চরম সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে প্রকাশ্য দলীয় কোন্দল, অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থার এই তৎপরতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তদন্ত শেষে সিআইডি কী প্রতিবেদন দেয় এবং এই জালিয়াতির পেছনে কারা জড়িত, তা জানতে রাজ্যবাসী এখন গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা এক উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
