তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আয়োজিত ন্যাটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। বুধবার ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট্টের সঙ্গে বৈঠকের প্রাক্কালে তিনি স্পেনকে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দেন এবং একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে নিজের দীর্ঘদিনের ইচ্ছার কথা পুনরায় প্রকাশ করেন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন না থাকার বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, তারা গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়নি এবং ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও প্রয়োজনীয় সহায়তা করেনি। স্পেনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্পেন ন্যাটোর একটি অকার্যকর অংশীদার এবং তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের বাণিজ্য করা উচিত নয়। ট্রাম্প মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, গত মার্চ মাসে স্পেন ইরানি যুদ্ধের ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি এবং তাদের আকাশসীমা মার্কিন বিমানের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, তারা ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বর্তমান সম্পর্কের প্রেক্ষিতে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছে। স্পেনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক মূলত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে কোনো একক দেশের বিরুদ্ধে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সম্ভব নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র ওলোফ গিল জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র গত বছরের যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে এবং ইইউ আশা করে যে ওয়াশিংটন তাদের বাণিজ্যিক প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে।
এদিকে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের পুরনো দাবি আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বের নিরাপত্তার খাতিরেই গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন। এর আগে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেত্তি ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির কোনো বিষয় নেই। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল ডেনমার্ক এবং সেখানকার বাসিন্দাদের বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
ন্যাটো সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থানের বিষয়টি সমাধান করা এবং সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। তবে ট্রাম্পের এই নতুন বিতর্কিত মন্তব্যে ন্যাটো জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাশিয়ার কাছ থেকে ইউরোপকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ ব্যয় করছে, তা নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। আঙ্কারা সম্মেলনের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু গ্রিনল্যান্ড ও বাণিজ্য ইস্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
